জাতিসংঘে তারেক রহমানের অভিষেক: চার দশকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন বিশ্বমঞ্চের কূটনৈতিক সমীকরণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জাতিসংঘে তারেক রহমানের অভিষেক: চার দশকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন বিশ্বমঞ্চের কূটনৈতিক সমীকরণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জাতিসংঘে তারেক রহমানের অভিষেক: চার দশকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন বিশ্বমঞ্চের কূটনৈতিক সমীকরণ..
জাতিসংঘে তারেক রহমানের অভিষেক: চার দশকের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন বিশ্বমঞ্চের কূটনৈতিক সমীকরণ..
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণ জিয়া পরিবারের চার দশকের বৈশ্বিক কূটনৈতিক ধারার নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা করতে যাচ্ছে।..

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক ধারার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকারের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। এর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন, যা বিশ্বমঞ্চে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক অভিযাত্রার সাক্ষ্য বহন করে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার নানামুখী সংকটের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ৮১তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমান সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই অভিষেক ভাষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানের একটি জোরালো বার্তা প্রেরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক সফরের প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রতিকারার্থে পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার লাভ করবে। বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে নানামুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট তার জোরালো চিত্র তুলে ধরে টেকসই সমাধানের তাগিদ দেওয়া হবে এই ভাষণের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের বিষয়টিতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার আমলের ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে তাগিদ দিয়েছিলেন, বর্তমান বিশ্বেও সেই একই বৈষম্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার আদায়ের লড়াই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে নতুন আঙ্গিকে প্রতিফলিত হবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক রূপান্তরের পর এটিই হতে যাচ্ছে কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতির বাজারে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে সাজানো হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই অংশগ্রহণ দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সাথে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর জোরালো করার মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও বেশি প্রসারিত করার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন।

পরিশেষে বলতে গেলে, জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জাতিসংঘ সফর কেবল একটি প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হতে চলেছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের এই ভাষণের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে এবং বৈশ্বিক নানা সংকটের মোকাবিলায় বাংলাদেশ কীভাবে তার নিজস্ব অবস্থান জোরালোভাবে বজায় রাখবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা উন্মোচিত হবে। বিশ্ব কূটনীতির এই জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিমণ্ডলে দেশের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সফর দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে বলেই রাজনৈতিক ও কূটনৈমিতিক বিশ্লেষকদের জোরালো অভিমত।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator