বাগেরহাটের রায়েন্দাবাজারে বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা: যমুনা টিভির অনুসন্ধানে ভুয়া ডাক্তারের জালিয়াত চক্র উন্মোচিত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাগেরহাটের রায়েন্দাবাজারে বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা: যমুনা টিভির অনুসন্ধানে ভুয়া ডাক্তারের জালিয়াত চক্র উন্মোচিত..

1753900756578223 avatar   
1753900756578223
বাগেরহাটের রায়েন্দাবাজারে বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা: যমুনা টিভির অনুসন্ধানে ভুয়া ডাক্তারের জালিয়াত চক্র উন্মোচিত..
বাগেরহাটের রায়েন্দাবাজারে বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই রমরমা চিকিৎসা ব্যবসা: যমুনা টিভির অনুসন্ধানে ভুয়া ডাক্তারের জালিয়াত চক্র উন্মোচিত..
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের রায়েন্দাবাজারে কোনো বৈধ বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন মাহমুদুল হাসান নামের এক ভুয়া ডাক্তার। যমুনা টিভির অনুসন্ধানে তার জালিয়াতি ও সনদ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ..

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দাবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে আসছেন মাহমুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চেম্বার পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোনো ধরনের বৈধ নিবন্ধন বা সনদ না থাকলেও তিনি প্রকাশ্যেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন, যা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের চরম উদাসীনতারই ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের একটি অনুসন্ধানী দল তার এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মাঠে নামে এবং ক্যামেরার সামনে তার জালিয়াতির আসল রূপ উন্মোচন করে। সাংবাদিকরা তার চেম্বারে গিয়ে বৈধ বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, চিকিৎসা পেশার মতো একটি সংবেদনশীল ও জীবনরক্ষাকারী পেশাকে পুঁজি করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে এবং আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের মুখে পড়ে নিজের জালিয়াতি ও অপরাধ ঢাকতে ওই ভুয়া ডাক্তার চরম ঔদ্ধত্য ও চাঞ্চল্যকর আচরণের আশ্রয় নেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে ১০ থেকে ১২ জন অনুসারী ও স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঘটনাস্থলে একটি অস্থিতিশীল ও ভীতিপ্রদ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালান। সাংবাদিকরা যখন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা ডিগ্রির উৎস সম্পর্কে জানতে চান, তখন তিনি চরম বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য দিতে শুরু করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে তিনি উত্তরায় অবস্থিত একটি মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছেন, কিন্তু প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় চাপের মুখে তিনি নিজের পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম তিনবার তিন রকম উচ্চারণ করেন। একবার তিনি বলেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ অব কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন, আবার কখনো বলেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, এবং শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দফায় তিনি আরেকটি ভিন্ন নাম উল্লেখ করেন। ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়ে যাওয়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন এবং কোনোভাবেই তার আসল সনদ সাংবাদিকদের দেখাতে রাজি হননি, যা তার প্রতারক চরিত্রের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

তবে ক্যামেরার সামনে লুকোচুরি খেললেও পরবর্তীতে বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তার জমা দেওয়া সনদ সংগ্রহ করার পর তার জালিয়াতির পুরো চিত্রটি উন্মোচিত হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উত্তরা বা দেশের কোনো স্বীকৃত মেডিকেল কলেজ তো দূরের কথা, তার এই তথাকথিত সনদটি আসলে ভারতের কলকাতার 'অল্টারনেটিভ মেডিকেল কাউন্সিল'-এর নামে ইস্যুকৃত। সিভিল সার্জন অফিসে জমা দেওয়া নথিপত্রে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে 'দি ওপেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ফর কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন' এবং পাসের সাল দেখানো হয়েছে ২০১৪। অথচ এই ভুয়া সনদের বলেই তিনি রায়েন্দাবাজারের মতো জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে মরণখেলা খেলে গেছেন। দেশের বিত্তশালী ও প্রভাবশালীরা সামান্য অসুস্থতার জন্য বিদেশে উন্নত চিকিৎসায় গেলেও দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র সাধারণ মানুষ টাকার অভাবে এসব ভুয়া ও লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন এবং তাদের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালেই মৃত্যুর মুখে পতিত হন। স্থানীয় সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের প্রতারক চক্রের অবাধ বিচরণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বর্তমান ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এই ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য কেবল সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত নয়, বরং এটি সমগ্র স্বাস্থ্য খাতের সুশাসনের অভাবকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নামসর্বস্ব ও ভিনদেশী অচেনা প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সনদের ভিত্তিতে যারা চিকিৎসাসেবার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি না থাকার কারণে কীভাবে এমন ব্যক্তিরা বছরের পর তা পার পেয়ে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট মহলের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে এই ভুয়া ডাক্তার মাহমুদুল হাসান এবং তার নেপথ্যে থাকা সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator