রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
রুহিয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ০৫ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিতর্কিত ফলাফল সংশোধনের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—সংশোধনের কথা বলে এতদিন ধরে তাদের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো? শেষ পর্যন্ত যদি বিতর্কিত তালিকাই বহাল থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়ার দায়ভার কে নেবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ০৫ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে নির্বাচিত ৭ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে। যদি সংশ্লিষ্টদের পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় বহাল থাকলেন—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দাবি করছেন স্থানীয়রা।
সংশোধন নাকি লোকদেখানো প্রক্রিয়া?
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফলাফল নিয়ে আপত্তি ওঠার পর সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। এতে তারা আশাবাদী হলেও পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—সংশোধনের উদ্যোগ যদি বাস্তবসম্মত হয়, তাহলে কোন কোন বিষয় যাচাই করা হয়েছে এবং কী কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা বহাল থাকলেন?
স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ—আবেদন যাচাই, বাছাইয়ের মানদণ্ড, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া—স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হোক।
রাজনৈতিক পরিচয় কি যোগ্যতার চেয়ে বড়?
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের যদি স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থে প্রয়োজন হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে কেন এমন অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে?
তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি নয়; বরং সরকারি বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির নিয়োগে একই মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে কি না—সেটিই তদন্ত করে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জবাবদিহি কার?
ফলাফল নিয়ে বিতর্কের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—কোন কর্তৃপক্ষ এই তালিকা অনুমোদন করেছে, কী যাচাইয়ের ভিত্তিতে করেছে এবং অভিযোগ ওঠার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
অভিযোগকারীরা বলছেন, সংশোধনের নামে যদি শেষ পর্যন্ত একই বিতর্কিত ফলাফল বহাল থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে কেন এমন দীর্ঘ প্রক্রিয়া চালানো হলো—এর জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।
একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এ বিষয়ে জবাবদিহি করবে? নাকি অভিযোগগুলো উপেক্ষা করেই নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে যাবে?
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফল প্রকাশ এবং স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ তালিকা নিশ্চিত করা হোক।
তবে অভিযোগে যাদের নাম বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে, তাদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
সংশোধনের কথা বলেও বিতর্কিত ফল বহাল? ৭ জনের মধ্যে ৪ জনের ছাত্রলীগ/ আওয়ামিলীগ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
সংশোধনের কথা বলেও বিতর্কিত ফল বহাল? ৭ জনের মধ্যে ৪ জনের ছাত্রলীগ/ আওয়ামিলীগ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
****
לא נמצאו הערות