জয়পুরহাটের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ঘুম ঘর: নানামুখী অনিয়মে শোকজ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জয়পুরহাটের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ঘুম ঘর: নানামুখী অনিয়মে শোকজ..

M Rasel Ahmed avatar   
M Rasel Ahmed
জয়পুরহাটের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ঘুম ঘর: নানামুখী অনিয়মে শোকজ..
জয়পুরহাটের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ঘুম ঘর: নানামুখী অনিয়মে শোকজ..
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ঘুম ঘর: নানামুখী অনিয়মে শোকজ..

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (সহকারী মৌলভী) জনাব মোহাম্মদ আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষকে ব্যক্তিগত বাসস্থান ও ঘুম ঘর হিসেবে ব্যবহার করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য ও একাধিক স্থিরচিত্রে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বেঞ্চ ও আসবাবপত্র সরিয়ে সেখানে খাট, বিছানা, তোশক, বালিশ, আলমারি, টেবিল ফ্যানসহ গৃহস্থালির সমস্ত জিনিসপত্র এনে ঘুম ঘর বানানো হয়েছে। ক্লাসরুমের ভেতরে বেঞ্চ ও আলমারি দিয়ে ঘেরা দিয়ে রুমটিকে অস্থায়ী আবাসন হিসেবে রূপ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। স্থানীয় অভিভাবক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের ক্লাসরুম দখল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত ঘর বানিয়ে রাতযাপন করছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এখানে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি বিনষ্ট হচ্ছে।"


অপর অভিভাবক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "সরকারি প্রতিষ্ঠানে খাট-বিছানা এনে ব্যক্তিগত থাকার ঘর বানানো চরম ক্ষমতার অপব্যবহার। রাতে এখানে শিক্ষক ও বিভিন্ন মানুষের যাতায়াত নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ দাবি করছি।"


অভিযোগ ও শোকজের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির  সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, "ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। শ্রেণীকক্ষকে ঘুম ঘর হিসেবে ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরিচালনা কমিটির সভা ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, "আমি আগে থাকতাম, তবে এখন আর থাকি না। স্কুলে মহিলা শিক্ষকরা যাতে তাঁদের বাচ্চাদের ফিডিং করাতে পারেন, সেজন্য রুমে খাট, বালিশ ও বিছানার চাদর রাখা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"


এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বাবলু কুমার মন্ডল জানান, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষ বা অবকাঠামো ব্যক্তিগত কাজে বা আবাসন হিসেবে ব্যবহার করার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

No se encontraron comentarios


News Card Generator