শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন..
শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন..
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চক্রান্তে জামায়াতে ইসলামী যুক্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। কুষ্টিয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই কঠোর বক্তব..

গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গভীর চক্রান্ত চলছে এবং এই প্রক্রিয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মতে, আওয়ামী লীগ দেশে যে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে এবং জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণেও এটি প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দলটির রাজনৈতিক অধ্যায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং শত শত ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো আইনি বা নৈতিক সুযোগ অবশিষ্ট নেই। তবে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জামায়াত ও তাদের সমমনা জোটের ভূমিকা জনমনে তীব্র সন্দেহের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জাতীয় এই সংকটকালীন মুহূর্তে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থাকে পুনরায় বিপন্ন করে তুলতে পারে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বর্তমান জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, এটি কোনো জনকল্যাণমুখী আন্দোলন নয়, বরং জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। জ্বালানি ঘাটতির মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে সামনে রেখে এ ধরনের লংমার্চ কর্মসূচি পালন করলে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা দেশীয় অর্থনীতি ও জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার পরিবর্তে লংমার্চের নামে রাজপথ উত্তপ্ত করার এই প্রবণতা পরোক্ষভাবে পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করছে। শেখ হাসিনা ও তার দোসররা এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, জামায়াত যদি অতীতে নব্বইয়ের দশকের মতো কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে এ দেশের মুক্তিকামী জনগণ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। শহীদ আবরার ফাহাদের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বাসন ঠেকাতে দেশের আপামর জনসাধারণ যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাশেদ খাঁন বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে বার্তা আবরার দিয়ে গেছেন, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি ভারত সরকারের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে বলেন, খুনি হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং অন্যান্য আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত যদি তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হবে। অতীতের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ভারত বা যেকোনো পরাশক্তির সাথে আত্মমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করাই শহীদ আবরার ফাহাদের প্রকৃত চেতনা। এই চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান প্রশাসন দেশ পরিচালনা করছে এবং কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার স্মৃতি স্মরণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার বাংলাদেশের আদালতেই নিশ্চিত করা হবে এবং রাজপথে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোরহস্তে দমন করা হবে। এ সময় অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator