সাত দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাত দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সাত দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের..
সাত দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের..
ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবির সঙ্গে দুর্নীতি ও দখলবাজি বন্ধের বিষয় যুক্ত করে সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।..

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে একটি বিশেষ লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। মূলত তাদের পূর্বঘোষিত ছয় দফা দাবির সঙ্গে দুর্নীতি ও দখলবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত করে নতুন এই সাত দফা রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই লংমার্চের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে এই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, কৃত্রিম তেল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জ্বালানি সংকটের কারণে এরই মধ্যে দেশের প্রায় এক হাজার দুইশ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্মহীন করে তুলেছে হাজার হাজার শ্রমিককে। পাশাপাশি, কৃষিক্ষেত্রে সারসংকট প্রকট আকার ধারণ করায় খাদ্যশস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খাদ্য উৎপাদনে এই ব্যাঘাত ভবিষ্যতে দেশকে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জোটের এই শীর্ষ নেতা। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির পেছনে এসব সংকটের গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েই সম্প্রতি গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাজনৈতিক মিছিল করার দুঃসাহস দেখিয়েছে একটি নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা পক্ষ। এছাড়া দেশজুড়ে খুন, রাহাজানি ও হত্যাকাণ্ডের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব সংকটের দ্রুত সুরাহা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জোটের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আসন্ন এই লংমার্চ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। তেল সংকট, বেকারি বন্ধ হয়ে যাওয়া, সারসংকট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে এনে এই লংমার্চ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জনজীবনের ওপর এই কর্মসূচির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে লংমার্চের মতো কঠোর কর্মসূচি সরকারের নীতিনির্ধারকদের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে রাজপথের রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ ঘটে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator