২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে জ্বালানি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব সরকারের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে জ্বালানি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব সরকারের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে জ্বালানি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব সরকারের..
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে জ্বালানি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব সরকারের..
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজবাড়ীতে গণমাধ্যমকর্মীদের ..

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে জানান যে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং পানি সম্পদের সুচারু ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার তাগিদ থেকেই এই উচ্চাভিলাষী অথচ বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সফল বাস্তবায়নের ওপর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মুক্তি অনেকাংশে নির্ভর করছে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল গতিধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যে অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার জরুরি, তা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে তুলে ধরেন এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেন।

বর্তমান জ্বালানি খাতের ভঙ্গুর দশা এবং এর পেছনের কাঠামোগত কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উপদেষ্টা সরাসরি পূর্ববর্তী সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে দায়ী করেছেন, যা দেশের অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের নীতিনির্ধারকদের দুর্নীতিগ্রস্ত সিদ্ধান্তের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, তার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণকে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলায় দেশীয় সংকট আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিগত সময়ে অতিরিক্ত চড়া দামে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে গিয়ে সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের লোকসান গুনতে হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই ধরনের হঠকারী ও জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশীয় উৎস সন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতাকে খর্ব করে রাখার যে অপচেষ্টা অতীতে চালানো হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার তাগিদ দেন।

এই সংকট উত্তরণে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মতবিনিময় সভায় জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। গ্যাস সংকট কাটাতে এবং তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নতুন গ্যাসকূপ খননের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান যে, দেশজুড়ে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এই খনন কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের বা বাপেক্সের নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ খাতের প্রথাগত ধারণায় পরিবর্তন এনে গ্রাহকদের শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বা ভোক্তা হিসেবে না দেখে বরং তাদের সরাসরি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার অভিনব প্রস্তাব দেন তিনি। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ ঘটানো গেলে সাধারণ গ্রাহকরা নিজেরাই নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারত, যা জ্বালানি খাতের অনেক জটিল সমস্যার জট খুলতে সাহায্য করত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কেবল জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতই নয়, বরং কৃষি ও মৎস্য খাতের মতো উৎপাদনশীল খাতগুলোর সুরক্ষায় পানি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ একটি দেশের অর্থনীতি যখন ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করতে চায়, তখন তার উৎপাদন খাতের ভিত্তি মজবুত হওয়া সর্বাগ্রে প্রয়োজন, আর এর সঙ্গে পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সরকারের এই বহুমাত্রিক উদ্যোগগুলো যদি সঠিক তদারকি ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবেই কেবল জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভবপর হবে। রাজবাড়ীতে দেওয়া উপদেষ্টার এই নীতিগত বক্তব্য মূলত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ নির্দেশ করে, যার সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে এবং ২০৩৪ সালের নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator