কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান ও সাফল্যের রোডম্যাপ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান ও সাফল্যের রোডম্যাপ

মোশতাক আহমেদ  avatar   
মোশতাক আহমেদ
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান ও সাফল্যের রোডম্যাপ
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান ও সাফল্যের রোডম্যাপ
ছবি: সংগৃহীত
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও, এই খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো অধরা। বাংলাদেশ ...

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও, এই খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো অধরা। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৭.৫% কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% এ উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ভোকেশনাল স্কুলগুলোতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, মানসম্মত শিক্ষা ও শিল্প-সংযুক্তির অভাবে বহু স্নাতক কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের শ্রমবাজারে এখনও প্রায় ৭০% দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে, যা সরাসরি কারিগরি শিক্ষা খাতের দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের ভবিষ্যৎ শ্রমশক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে একটি সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষত যখন বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কারিগরি শিক্ষার ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুগোপযোগী ও শিল্প-চাহিদাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের অভাব এবং এর ধীর হালনাগাদ প্রক্রিয়া। দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল শিল্প ও সেবা খাতের সাথে সঙ্গতি রেখে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত কোর্সগুলোর সিলেবাস নিয়মিত হালনাগাদ না হওয়ায় স্নাতকরা প্রায়শই অপ্রাসঙ্গিক দক্ষতা নিয়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে শিল্প খাতে রোবটিক্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে, সেখানে অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এখনও সনাতন পদ্ধতির পাঠ্যক্রম ও যন্ত্রপাতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা কমিটি গঠন করলেও, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের অভাবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্লথ। ফলস্বরূপ, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় আধুনিক দক্ষ জনবল খুঁজে পাচ্ছে না, এবং স্নাতকদের একটি বড় অংশ তাদের অর্জিত ডিগ্রির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। তদুপরি, পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাবও এই খাতের আরেকটি বড় দুর্বলতা। অনেক প্রতিষ্ঠানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষকের সংকট রয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ সীমিত হয়ে পড়ে। শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত শিল্প প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগও অপ্রতুল।

দ্বিতীয়ত, কারিগরি শিক্ষার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের এই ধারা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কারিগরি শিক্ষাকে প্রায়শই "দ্বিতীয় শ্রেণীর" বলে মনে করা হয়, যা অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। এই ধারণার মূল কারণ হলো কারিগরি স্নাতকদের জন্য উচ্চশিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং কর্মজীবনে পদোন্নতির অস্পষ্ট পথ। যদিও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) দক্ষতা সনদের মান উন্নয়নে কাজ করছে এবং ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (NTVQF) বাস্তবায়নে সচেষ্ট, তবুও এই ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে অর্জিত দক্ষতার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনও সর্বজনীন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কারিগরি স্নাতকদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করলেও, এর বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। মাত্র ১৬.২% পলিটেকনিক ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েট উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়, যা হতাশাজনক। এছাড়া, শিল্প খাতের সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকরী সংযোগের অভাবও একটি বড় সমস্যা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং যৌথ গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করে এবং শিল্প-শিক্ষার দূরত্ব বাড়িয়ে তোলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পর্যাপ্ত গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে না পারায় শিল্প-শিক্ষার এই সেতুবন্ধন দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

তবে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ অনুসরণ করা সম্ভব। প্রথমত, কারিগরি শিক্ষাকে শিল্প-নির্ভর করে গড়ে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বমূলক মডেল তৈরি করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের শিল্পে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। NSDA-কে তার ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ককে আরও কার্যকর ও সর্বজনীন করতে হবে, যাতে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সহজেই স্বীকৃতি পান। এই ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে শিল্প-মান অনুযায়ী দক্ষতা সনদ প্রদান এবং তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে অত্যাধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ, ডিজিটাল শিক্ষার পরিবেশ এবং সিমুলেশন ল্যাব তৈরি করতে হবে। এর পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য একটি ব্যাপক প্রচার অভিযান চালানো উচিত, যেখানে এর উজ্জ্বল কর্মজীবনের সম্ভাবনা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগগুলো তুলে ধরা হবে। UGC-এর উচিত কারিগরি স্নাতকদের জন্য বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা কোর্স এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমমানের ডিগ্রির পর ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ আরও সহজ করা, যা তাদের উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে। সর্বোপরি, সরকারের পক্ষ থেকে কারিগরি শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা উচিত, যা এই খাতের সামগ্রিক মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের নির্বাচিত সূচকসমূহ (২০১৮-২০২৩)
সূচক ২০১৮ ২০২০ ২০২২ ২০২৩
মোট উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে কারিগরি শিক্ষার হার (BANBEIS) ১৪.২% ১৫.৫% ১৬.৮% ১৭.৫%
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংখ্যা (কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর) ৭,৮৫০ ৮,২০০ ৮,৬০০ ৮,৯৫০
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটে কারিগরি শিক্ষার অংশ (%) ৬.১% ৬.৫% ৬.৮% ৭.০%
NSDA কর্তৃক প্রত্যয়িত দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যা (লক্ষ) ১.৫ ২.২ ৩.৫ ৪.৮
পলিটেকনিক ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের হার (UGC সমীক্ষা) ১২% ১৩.৫% ১৫% ১৬.২%

উৎস: বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (BANBEIS), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এর বার্ষিক প্রতিবেদন ও প্রকাশনাসমূহ।

সুপারিশ

  • কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) যৌথভাবে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি "জাতীয় দক্ষতা ও শিল্প সমন্বয় বোর্ড" গঠন করবে। এই বোর্ড জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮ এর অধীনে প্রতি বছর শিল্প-চাহিদাভিত্তিক পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, শিক্ষকদের জন্য শিল্প প্রশিক্ষণ (Industrial Attachment) এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন মডিউল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বোর্ড বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) এর মাধ্যমে পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের তদারকি করবে।
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের জন্য একটি বিশেষ "দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল" গঠন করবে, যা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের 'পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি' (Continuous Professional Development - CPD) আয়োজনে ব্যবহার করা হবে। এই তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্প বিশেষজ্ঞদের দ্বারা কর্মশালার আয়োজনে ব্যয় করা হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর "ক্রেডিট ট্রান্সফার ও যোগ্যতা স্বীকৃতি নীতিমালা" প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে, যা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে। এই নীতিমালায় ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমমানের ডিগ্রিধারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট ছাড়, বিশেষায়িত প্রোগ্রামের সুযোগ এবং 'পূর্ববর্তী শিক্ষার স্বীকৃতি' (Recognition of Prior Learning - RPL) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (National Qualifications Framework - NQF) এর সাথে পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ হবে।

✍️ নিবন্ধ লেখক: মোশতাক আহমেদ

মোশতাক আহমেদ 'আই নিউজ বিডি'-র একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষক। তাঁর বিশেষত্বের জায়গা: কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এই নিবন্ধটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে সংকলিত।

نظری یافت نشد


News Card Generator