কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আবারও প্রাণ ফিরে পেল কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলায়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে সোয়াইজনী নদী সংলগ্ন চৈল্যাতির হাওরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-২০২৬। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সকাল থেকেই হাওরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
নিকলীর নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল। প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। তিন পর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মাঝিদের দক্ষতা, গতি ও কৌশলের লড়াই উপভোগ করেন হাজারো দর্শক।
বড় নৌকা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে নিকলী সদর ইউনিয়নের ইসরাফিল মাঝির নৌকা। বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি ফ্রিজ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সিংপুরের মজিবুল্লাহর ‘ইটকলা সর্দার গ্রুপ’। তাদের দেওয়া হয় ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।
ছোট নৌকা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে পাচলীপাড়া দল। বিজয়ীদের দেওয়া হয় ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নিকলী সদর ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের মোবারক দল। তাদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি মোবাইল ফোন। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মাঝি ও দলগুলোকেও দেওয়া হয় সান্ত্বনা পুরস্কার।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. সাদ্দাম হোসেন সাদু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিকলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শরিফুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. কফিল উদ্দিন আহমেদ, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২-এর পিপি অ্যাডভোকেট এ এম সাজ্জাদুল হক, উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সহসভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ।
নৌকা বাইচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা, ট্রলার ও বিভিন্ন জলযানে করে মানুষ চৈল্যাতির হাওরে জড়ো হন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। হাওরের জলরাশিতে সারি সারি নৌকা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও হুংকার এবং দর্শকদের করতালিতে ফিরে আসে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের সেই দৃশ্য।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করা গেলে নৌকা বাইচ শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই নয়, নিকলীর হাওরভিত্তিক পর্যটন, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।