গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কৃতি সন্তান আ ন ম আয়াসকে আগামী দুই বছরের জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটি একই সাথে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদকে আজীবন মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করে তাদের রাজনৈতিক দর্শনের স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্বদানকারী আ ন ম আয়াসের এই নিয়োগকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পর্যায়ের একজন তরুণ নেতার জাতীয় পর্যায়ে এমন নেতৃত্ব গ্রহণ তারাকান্দার মানুষের জন্য নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে এবং একই সাথে সংগঠনের লক্ষ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের পথে এক নতুন অভিযাত্রার সূচনা করেছে।
আ ন ম আয়াসের এই অর্জনে তারাকান্দা উপজেলা এনসিপি যুবশক্তি শাখা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে আয়াসের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এলাকার উন্নয়নে তার নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আনিছুর রহমান জানান যে, আয়াস কেবল একজন দক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকই নন, বরং ছাত্ররাজনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখাই তার কর্মপদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে ময়মনসিংহের রাজপথে আয়াসের সাহসী ভূমিকা এবং গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধারণ করে তার এগিয়ে চলা স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তার নেতৃত্ব কেবল তারাকান্দার জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের যুবসমাজের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতির মাঝে সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতে, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের এই নতুন নেতৃত্ব দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংলাপে সমাধান এবং চাপে পরিবর্তন—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়াসের নেতৃত্বাধীন কমিটি কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিগুলো আদায় করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আয়াসের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক সততা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। যুবশক্তির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে, আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম দেশের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত এবং শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি সংগঠনটি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে আয়াসের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যুবসমাজের এই নতুন রাজনৈতিক জাগরণকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, সংস্কারের পথে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি হবে না।
পরিশেষে, আ ন ম আয়াসের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ আগামী দিনে পরিবহন ও জনসেবামূলক খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় যে স্থবিরতা দেখা দেয়, আয়াসের জাতীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা তা কাটিয়ে ওঠার পথ প্রশস্ত করবে। রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের এই নবগঠিত কমিটির সাফল্য কেবল আয়াসের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং এটি পুরো দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের সাথে সরাসরি যুক্ত। তারাকান্দার সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে আয়াসের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে, যা জাতীয় রাজনীতির অলিগলিতে নতুন হাওয়া বইয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তনে এবং জুলাই বিপ্লবের অর্জিত আদর্শ সমুন্নত রাখতে আ ন ম আয়াস তার মেধা ও সাহসিকতার পরিচয় দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তার সমর্থক ও স্থানীয় শুভানুধ্যায়ীরা।