কুলিয়ারচরে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম: কাজ শেষ হতেই ধসে পড়ল… | আই নিউজ বিডি

কুলিয়ারচরে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম: কাজ শেষ হতেই ধসে পড়ল নবনির্মিত আরসিসি রাস্তা..

Ali Sohel avatar   
Ali Sohel
কুলিয়ারচরে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম: কাজ শেষ হতেই ধসে পড়ল নবনির্মিত আরসিসি রাস্তা..
কুলিয়ারচরে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম: কাজ শেষ হতেই ধসে পড়ল নবনির্মিত আরসিসি রাস্তা..
ছবি: সংগৃহীত
****

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় নবনির্মিত সড়ক ও কালভার্ট ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।এম.আর.আর.আই.ডি.পি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১১৬০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় চট্টগ্রামের ‘মেসার্স মোহাম্মদ ইউসূফ এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ৮ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ৮ জুলাই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তার স্লাব ও কালভার্টের ঢালাই খসে পড়ে রড বেরিয়ে আসে এবং বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। 

অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যার ফলে স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াত চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ঢালাই ধসে যাওয়ার ফলে ইতোমধ্যে অটোরিকশা উল্টে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভাঙা অংশে দায়সারাভাবে সিমেন্ট ও বালুর প্রলেপ দেওয়া হয়েছে, যা মূল সমস্যার সমাধান নয় বরং জালিয়াতির একটি অংশ মাত্র।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের রড, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করেছে। ইমরান খান এনায়েত, শাহীন সুলতানা এবং মো. দ্বীন ইসলামসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, নির্মাণের সময় তারা বারবার বাধা দিলেও ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধিরা কোনো তোয়াক্কা করেননি। প্রকৌশলীদের চোখের আড়ালে অত্যন্ত কৌশলে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে রাস্তার স্থায়িত্ব কমিয়ে আনা হয়েছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যাচ্ছে এবং ঢালাই খসে পড়ছে। 

এলাকাবাসীর মতে, দুই কোটি টাকার বেশি বাজেটের একটি প্রকল্পে এমন ভয়াবহ চিত্র কেবল দুর্নীতি ও অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে ভাঙা ও ফাটল ধরা এই রাস্তায় প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়ভাবে কাজটি তদারকি করা ‘মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয়দের মনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ জানান, রাস্তার সাইট সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ও অনিয়মের তথ্য তাদের নজরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তদারকি করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই পুনরায় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা এই দায়সারা সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তারা মনে করছেন, কেবল দায়সারা প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সরকারি অর্থের এমন অপচয় এবং জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে প্রকল্পের মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে সচেতন মহল মনে করছেন 

No comments found


News Card Generator