ফিশিং লিংকের ফাঁদে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ: ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফিশিং লিংকের ফাঁদে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ: ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
ফিশিং লিংকের ফাঁদে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ: ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার..
ফিশিং লিংকের ফাঁদে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ: ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত

সফটওয়্যার আপডেটের প্রলোভন দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রংপুরে অভিযান চালিয়ে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।..

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের শাহীদ আল ইমরান সৌরভ এবং রংপুরের মো. সাগর হোসেন। গত ২ জুন একজন ভুক্তভোগীর মোবাইলে সফটওয়্যার আপডেট সংক্রান্ত একটি ফিশিং লিংক পাঠিয়ে কৌশলে তার ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এই চক্রটি। ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরপরই ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৯ লাখ ৮৬ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ৪ জুন পল্টন থানায় মামলা দায়ের করলে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাধারণ সফটওয়্যার আপডেট মেসেজে ক্লিক করার পরই তার স্মার্টফোনটি অকেজো হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে পুনরায় চালু হলে দেখা যায় তার ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সব তথ্য বেহাত হয়ে গেছে। এই ধরনের প্রতারণা কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সাগর হোসেন ফেসবুক ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল। তারা টার্গেট করা ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তা দ্রুত বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করত। উদ্ধার হওয়া আলামত হিসেবে তিনটি চেকবই, ভিসা কার্ড এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিকল্পিত সাইবার অপরাধের প্রমাণ বহন করছে।

সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা আত্মসাৎ করা অর্থ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে থাকা মূল হোতাদের কাছে পাঠিয়ে দিত এবং বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ করত। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থেকে দেশের আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে প্রতারক চক্রের নিত্যনতুন কৌশলের কাছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিআইডি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, কোনো প্রলোভন বা জরুরি বার্তার দোহাই দিয়ে পাঠানো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা সাইবার নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে পুঁজি করে চক্রটি যেভাবে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তা দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক লিংকের বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায়, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সাথে সাথে এ ধরনের সাইবার অপরাধের মাত্রা ও ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator