ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ছড়ানো গুজব ও অপতথ্য সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়; সবাই বাংলাদেশি।”
তিনি বলেন, সমাজবিরোধী কোনো অপশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এসব অপতথ্য ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
৭৩ পুরোহিত-সেবায়েতকে সম্মানী
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের হাতে সম্মানীর অর্থ তুলে দেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে জনগণ’
অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণ সেই ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
হেঁটে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
এর আগে সকালে সচিবালয় থেকে গাড়িবহর ছাড়াই পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সঙ্গে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাওয়ার সময় পথচারীরা তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনিও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।