কর্মস্থলে স্বাভাবিক উপস্থিতি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কর্মস্থলে স্বাভাবিক উপস্থিতি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
কর্মস্থলে স্বাভাবিক উপস্থিতি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ..
কর্মস্থলে স্বাভাবিক উপস্থিতি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ..
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ; কর্মস্থলে হাসিখুশি থাকার কয়েক ঘণ্টা পরই এমন ঘটনায় রহস্যের দানা বেঁধেছে।..

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানাধীন উত্তর আগ্রাবাদের রমনা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত কর্মঠ ও সদালাপী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সহকর্মীদের সাথে নিয়মিত দাপ্তরিক সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, সভায় তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখা গিয়েছিল, যা তার হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার এমন অস্বাভাবিক প্রস্থান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী নাতিকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় ছায়েদুর রহমান দ্রুত বাসায় ফেরার তাগিদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে স্ত্রী বাসায় ফিরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় পর্যায়ে খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পেশাগত জীবনে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা বা ব্যক্তিগত কোনো সংকটের কথা তিনি কখনো প্রকাশ করেননি। তিন কন্যার জনক ছায়েদুর রহমানের বড় মেয়ে প্রকৌশলী এবং ছোট মেয়ে এমবিবিএস শিক্ষার্থী হিসেবে ঢাকায় অবস্থান করছেন, আর মেজো মেয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্থিতিশীল ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে হঠাৎ কী এমন বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে জনমনে এবং তার পরিচিত মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়েনাল আবেদিন মণ্ডল জানিয়েছেন, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আত্মহত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্ররোচনার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি কেবল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কোনো মানসিক চাপ, পারিবারিক জটিলতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ তার মোবাইল কল রেকর্ড এবং গত কয়েকদিনের যোগাযোগ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোকের কারণ নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে চরম মানসিক চাপের সাথে পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একজন উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তার কর্মস্থলের হাসিখুশি পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত জীবনের এই করুণ পরিণতি সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও, এই ঘটনাটি পেশাদার ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। পুলিশি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনই এখন এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে পারবে বলে আশা করছেন স্বজন ও সহকর্মীরা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator