গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক খালেদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা মূলত তার পেশাগত সততার বিপরীতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড। সকালের দিগন্ত, গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার নিউজ, জিবি টেলিভিশন, জে টিভি ৫০ এবং গোলাপগঞ্জ টিভির মতো একাধিক ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে খালেদের বিরুদ্ধে আইনি ধারার ধোঁয়াশা তৈরি করে যে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, তার পেছনে কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা আইনি ভিত্তি নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে খালেদ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী চক্রের নানা অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিলেন। এই প্রতিবেদনের ফলে জনসমক্ষে উন্মোচিত হওয়া দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীটি নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে, যা মূলত একটি সুপরিকল্পিত ডিজিটাল আক্রমণ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক খালেদ এবং তার সহকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আইনি ধারার ভয় দেখিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এই প্রক্রিয়াটি সাইবার অপরাধের পর্যায়ভুক্ত। স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তিনি বারবার প্রভাবশালী মহলের চক্ষুশূল হয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে এখন তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানিয়েছেন, খালেদ যখনই কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন, তখনই তাকে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ডিজিটাল হয়রানি তাকে পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল মাত্র। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংবাদ বা তথ্যের সত্যতা নিয়ে দ্বিমত থাকলে তা আইনি বা নৈতিকভাবে মোকাবিলা করার সুযোগ থাকলেও, এই চক্রটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে খালেদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ধরণের ন্যাক্কারজনক অপপ্রচারের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকরা বলছেন, সত্য প্রকাশে বাধা প্রদান এবং চরিত্রহননের মাধ্যমে যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা চলছে, তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য চরম হুমকি। এ ধরনের সাইবার হামলার বিরুদ্ধে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে এসব ভুয়া নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুক পেজের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রকৃত কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসা উচিত, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কাউকে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত এই সাইবার সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যাতে ভবিষ্যতে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ না হয়।
সাংবাদিক খালেদের বিরুদ্ধে চলা এই পরিকল্পিত আক্রমণ কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এটি মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এক অশনি সংকেত। যদি এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং প্রভাবশালী মহল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সাইবার অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। সত্যের পথ চলা অব্যাহত রাখতে এবং সমাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই অপপ্রচারকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা এবং সাংবাদিকতাকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে, অন্যথায় সাধারণ মানুষ সত্য সংবাদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে এবং ক্ষমতার আড়ালে থাকা অপরাধীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।