কেন্দ্র চলছে মাত্র একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে।
প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটে এসব কেন্দ্রে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত
হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। সরেজমিনে
গিয়ে জানা যায়, রুহিয়া উপজেলার ২ নম্বর আখানগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও
পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৩ নম্বর রাজাগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৪
নম্বর ঢোলারহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সদর উপজেলার
আকচা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন উপসহকারী
কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সপ্তাহের
নির্দিষ্ট দিনে চারটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। শনিবার ও রবিবার আখানগর,
সোমবার ও মঙ্গলবার ঢোলারহাট, বুধবার রাজাগাঁও এবং বৃহস্পতিবার আকচা
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা দেন তিনি। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে
প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,
একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন
নিরাপত্তাপ্রহরী ও একজন আয়া থাকার কথা। কিন্তু এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল
নেই। কোথাও একজন, আবার কোথাও দুজন কর্মচারী দিয়ে দায়সারাভাবে চলছে
কার্যক্রম। এছাড়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শক, পরিদর্শিকা ও পরিবার
পরিকল্পনা সহকারীরও পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের
পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ঢোলার হাটের শাহিন ও
শাহাজাদ, রাজাগাঁওয়ের ইব্রাহিম ও সাদ্দাম, আখানগরের সাহাজাহানসহ
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক
চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার অন্যতম ভরসা। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না
থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেককেই দূরের হাসপাতাল বা বেসরকারি
ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে শূন্য
পদ পূরণের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও
গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিবার
পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাদিয়া আক্তার বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ
একমত। আমাদের যথেষ্ট জনবলের অভাব রয়েছে। জনবলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
জনবল নিয়োগ হলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।”