নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৫ নং ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এস এম সোহাগ। বাসাউরা গ্রামের বাসিন্দা ও রতন শেখের জ্যেষ্ঠ পুত্র সোহাগ দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এই তরুণ প্রার্থী ২০১১ সাল থেকে ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝে তার রাজনৈতিক পরিচিতি বেশ গভীর। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিরোধী আন্দোলনের সংগ্রাম কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। নেত্রকোনা সরকারি কলেজস্থ পূর্বধলা উপজেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছেন, যা আসন্ন নির্বাচনে তার প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনী মাঠে নামার মূল কারণ হিসেবে এস এম সোহাগ তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করে ইউনিয়নকে একটি মাদকমুক্ত ও আধুনিক জনপদে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ইউনিয়নের নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তিতে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এস এম সোহাগের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনীতির অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবেই মূলত ইউনিয়ন পরিষদ প্রত্যাশিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইউনিয়নের বাজেটের সঠিক বণ্টন না হওয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে আছে। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং পরিষদের প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তার এই সাহসী ও তরুণসুলভ বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এদিকে সোহাগের এই প্রার্থিতা ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে। যদিও এখনো নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণ রাজনীতিক ও ভোটারদের মতে, সোহাগের মতো তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ইউনিয়ন পরিষদের কাজে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কাকে মনোনয়ন দেয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। সোহাগের দাবি, রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা তাকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানে তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। তবে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এস এম সোহাগের মতো তরুণদের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের এই আগ্রহ যদি ভোটারদের মাঝে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের আগামী দিনের উন্নয়ন চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগই নির্ধারণ করবে কে হতে যাচ্ছেন আগামী দিনের ইউনিয়ন পরিষদের কর্ণধার। পরিবহন ও স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়নে এই তরুণ প্রার্থীর প্রতিশ্রুতিগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী প্রচারণার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও পাল্টা কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পুরো ইউনিয়নকে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী আমেজে নিয়ে যাচ্ছে।