নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে এমপির গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করার অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে এমপির গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করার অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ..

Md MR Uzzal avatar   
Md MR Uzzal
নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে এমপির গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করার অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ..
নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে এমপির গাড়িতে তুলে নিয়ে মুক্ত করার অভিযোগ: জনমনে তীব্র ক্ষোভ..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিল ও বাস ভাঙচুরের চেষ্টার সময় আটক কর্মীকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের গাড়িতে তুলে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।..

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া এলাকায় গত ২১ আগস্ট সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঢাকা-নেত্রকোনা মহাসড়কে চলাচলকারী রফ রফ পরিবহনের একটি বাসে অতর্কিত হামলা চালানোর সময় স্থানীয় জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ধাওয়া দিয়ে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে জনরোষ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই জনতা কর্তৃক আটককৃত ওই কর্মীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর না করে কৌশল অবলম্বন করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রহস্যজনকভাবে তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের এক নগ্ন উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগী যাত্রী এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের এমন আস্ফালন সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যখন জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদে অভিযুক্তদের আটক করেছিল, তখন জনপ্রতিনিধির সরাসরি হস্তক্ষেপে একজন অপরাধীর মুক্তি পাওয়া কেবল অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং এটি অপরাধীদের উৎসাহিত করার শামিল। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় জামায়াত ও এমপির পরোক্ষ মদদেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি বারবার জনপদে অস্থিরতা সৃষ্টির সাহস পাচ্ছে। জনতা যেখানে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে দিতে চেয়েছিল, সেখানে জনপ্রতিনিধির এমন ভূমিকা ন্যায়বিচারের পথকে রুদ্ধ করেছে। এই পক্ষপাতমূলক আচরণ স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে, কার স্বার্থে এবং কোন ক্ষমতার বলে একজন চিহ্নিত অপরাধীকে মুক্ত করা হলো।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বর্তমানে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলেও ততক্ষণে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই দাবি নিয়ে জনমনে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, কারণ পুলিশের উপস্থিতির আগেই এমপির গাড়িতে করে অপরাধীকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। ওসি আরও জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তকে মুক্ত করার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি অভিযান চলমান থাকার দাবি করা হলেও, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনাটি বৃহত্তর নেত্রকোনা অঞ্চলের পরিবহন খাতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তখন জনপ্রতিনিধিদের এমন ভূমিকা আইনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। স্থানীয় জনতা এখন এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় বা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি অপরাধীদের ঢাল হিসেবে কাজ করার সাহস না পায়।

Nessun commento trovato


News Card Generator