শনিবার রাতে উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাহেদ বিশ্বাসসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সাহারা খাতুন ওই গ্রামের আবদুল মোতালেবের স্ত্রী। আটক সাহেদ বিশ্বাস উপজেলার কাকৈইগড়া এলাকার কাসেম বিশ্বাসের ছেলে। আটক অপর দুজন হলেন সাহেদের তৃতীয় স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (২৭) ও তাঁর (শাহেদের) মা শাহেরা খাতুন (৫৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে সাহেদ বিশ্বাস সাহারা খাতুনের মেয়ে কুলসুমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তাঁদের চার ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে অসুস্থ হয়ে কুলসুমা মারা যান। এরপর সাহেদ আরও দুটি বিয়ে করেন। সর্বশেষ প্রায় ছয় মাস আগে ফুলপুর নামাপাড়া গ্রামের তাসলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুলসুমার মৃত্যুর পর তাঁর ওয়ারিশ সূত্রে শাশুড়ি সাহারা খাতুনের কাছ থেকে প্রায় ৩১ শতক জমি পাওয়ার দাবি করেন সাহেদ। এ নিয়ে সাহেদ ও তাঁর শাশুড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে নিজের জীবননাশের আশঙ্কায় প্রায় এক মাস আগে সাহেদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন সাহারা। পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে সাহেদ ও সাহারা খাতুনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাহেদ তাঁর শাশুড়িকে গলা টিপে ধরেন এবং পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই সাহারা খাতুনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সাহেদকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহেদ, তাঁর স্ত্রী তাসলিমা ও মা শাহেরা খাতুনকে আটক করে। পুলিশ হেফাজতে থাকায় অভিযুক্তদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'