মৌলভীবাজারের রাজনগরে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির ইউনিয়ন শাখা গঠন: হাওরাঞ্চলের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মৌলভীবাজারের রাজনগরে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির ইউনিয়ন শাখা গঠন: হাওরাঞ্চলের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ..

সঞ্জয় মালাকার avatar   
সঞ্জয় মালাকার
মৌলভীবাজারের রাজনগরে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির ইউনিয়ন শাখা গঠন: হাওরাঞ্চলের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ..
মৌলভীবাজারের রাজনগরে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির ইউনিয়ন শাখা গঠন: হাওরাঞ্চলের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ..
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজারে কৃষি ও কৃষকের অধিকার সুরক্ষায় ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা কাউয়াদিঘি হাওরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট নিরসনে কাজ করবে।..

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কৃষি ও কৃষকদের অধিকার আদায় এবং দীর্ঘদিনের কৃষি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মুন্সিবাজার ইউনিয়নে ‘কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটি’র ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন শাখা গঠিত হয়েছে। গত ২২ আগস্ট বিকেল ৪টায় মুন্সিবাজারের কিং কাচ্চি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত এই কমিটিতে লেচু মিয়া সভাপতি, এজাজ উদ্দিন বানাই সহ-সভাপতি, সাইদুল ইসলাম তালুকদার সাধারণ সম্পাদক, অমর ঘোষ সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ফখরুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সুলেমান মিয়া ও সদস্য সচিব ফজলুর রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে কৃষি সুরক্ষার কার্যক্রমকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূলত হাওরাঞ্চলের কৃষিজমি রক্ষা এবং ফসল উৎপাদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

কমিটি গঠনের মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কাউয়াদিঘি হাওরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্বিষহ জীবনচিত্র। সভায় স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, হাওরে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত বোরো মৌসুমে পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তার জন্য মনু সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাসিমপুর পাম্প হাউজের নিষ্ক্রিয়তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। কৃষকদের দাবি, পাম্প হাউজটি যথাযথভাবে সচল না থাকায় এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই কৃষকদের বিনিয়োগ ও শ্রম বিফলে যাচ্ছে, যা তাদের দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে নিমজ্জিত করছে। স্থানীয় কৃষকদের সরাসরি অভিযোগ থেকে স্পষ্ট যে, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই হাওরের উৎপাদনশীলতা আজ চরম সংকটে নিপতিত হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে, কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, কাসিমপুর পাম্প হাউজের অকার্যকারিতা কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে পাম্প হাউজটিকে সম্পূর্ণ সচল করে হাওরের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে সাধারণ কৃষকদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কৃষি সুরক্ষায় স্থানীয় এই সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও জোরালো করার মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে নবগঠিত এই কমিটি।

তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হলে তা ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কেবল কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অধিকারের সুরক্ষায় এই সংগঠনের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনের সাথে দরকষাকষির সক্ষমতা কতটুকু বজায় থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে স্থানীয় কৃষির ভবিষ্যৎ। অদূর ভবিষ্যতে যদি সেচ প্রকল্পগুলোর আধুনিকায়ন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না যায়, তবে কেবল কমিটি গঠন করে কৃষকদের দীর্ঘস্থায়ী লোকসান কমানো সম্ভব হবে না। তাই স্থানীয় প্রশাসনের সাথে এই কৃষক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে অত্র অঞ্চলের কৃষকদের টিকে থাকার একমাত্র কার্যকর পথ, যা দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator