গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন চররাঙ্গামাটিয়া এলাকায় লায়লা টাওয়ারের সামনে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাকিবকে। মোবাইল ফোন সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাত্র সাত দিন আগে বাবা হওয়া সাকিবের এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার নেপথ্যের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাকিবের পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল মোবাইল ফোন নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা রয়েছে। নিহত সাকিবের স্বজনরা দাবি করছেন, একটি ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং সেটির প্রতিবাদ করার কারণেই সাকিব স্থানীয় কিছু ব্যক্তির রোষানলে পড়েছিলেন। ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তার পরিবার। এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ইমন ও রায়হান নামে দুই ভাইয়ের নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নবজাতকের মুখ দেখার আনন্দ সাত দিন পার না হতেই সাকিবের এই মর্মান্তিক পরিণতি পরিবারটির জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার ভয় কাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ করছে। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা অন্য যেকোনো প্রভাবই অপরাধীকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ করে দেবে না। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, তদন্ত যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রভাবিত না হয়। তারা অবিলম্বে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তুচ্ছ মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে এমন একটি প্রাণহানি প্রমাণ করে যে এলাকায় অপরাধী চক্র কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং তাদের লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি।
একজন কর্মক্ষম যুবককে হারিয়ে সাকিবের পরিবার আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে, বিশেষ করে মাত্র সাত দিন বয়সী নবজাতকের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ করেনি, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তাহীনতার চিত্রকে সামনে এনেছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বা তদন্তে গাফিলতি যেন এই নবজাতক ও তার মায়ের প্রাপ্য ন্যায়বিচারের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপই পারে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।