লামার ফাইতংয়ে ৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী, তারপরও নেই একজনও মুসলিম শিক্ষক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

লামার ফাইতংয়ে ৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী, তারপরও নেই একজনও মুসলিম শিক্ষক..

Farhad Ahmad avatar   
Farhad Ahmad
লামার ফাইতংয়ে ৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী, তারপরও নেই একজনও মুসলিম শিক্ষক..
লামার ফাইতংয়ে ৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী, তারপরও নেই একজনও মুসলিম শিক্ষক..
ছবি: সংগৃহীত
****

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২৭৫ জন। এর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম। অর্থাৎ বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ মুসলিম। কিন্তু এত সংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে নেই একজনও মুসলিম শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে প্রেষণে একজন মুসলিম শিক্ষক এক-দুই মাসের জন্য এলেও পরে আবার অন্যত্র চলে যান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই সংকট বিরাজ করছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত। তাঁদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। বিদ্যালয়ের ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জন মুসলিম হলেও তাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদানের জন্য নেই কোনো মুসলিম শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষক।

‘ইসলাম শিক্ষার ক্লাস হয় না’

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের নিয়মিত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ক্লাস হয় না। নিজেদের উদ্যোগে কিংবা বাড়িতে পড়ে তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। শিক্ষক না থাকায় বইয়ের অনেক বিষয় বুঝতেও তাদের সমস্যা হয়।

এক শিক্ষার্থী বলে, “ইসলাম শিক্ষার কোনো নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেরা পড়ে অথবা বাড়িতে পড়ে পরীক্ষা দিতে হয়। অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হলেও বুঝিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষক নেই।”

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মার্মা বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। “আমরাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম। অথচ তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো মুসলিম শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষক নেই। বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান আমরাও চাই।”

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য থোয়াইহ্লা মার্মা বলেন, “ফাইতং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও দেড় যুগের বেশি সময় ধরে একজন মুসলিম শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষক না থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। এটি শুধু শিক্ষক সংকট নয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি ঘাটতি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সাময়িকভাবে প্রেষণে শিক্ষক পাঠিয়ে দায় সারলে হবে না; স্থায়ীভাবে উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাই যেন শিক্ষক সংকটের কারণে নিজস্ব ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়—এ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা কুইজ্জাখোলা এলাকার সাবেক সর্দার ফারুক শিকদার বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম, অথচ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে সেখানে একজন মুসলিম শিক্ষকও নেই—বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নই। বরং চাই, সব সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীর জন্য সমান ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি সমস্যা ঝুলিয়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, “এরকম আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব শিগগিরই একটি সুরাহা হবে।”

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন—১৫৪ জন মুসলিম শিক্ষার্থী থাকা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কেন একজন মুসলিম শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষক স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি? মাঝেমধ্যে প্রেষণে শিক্ষক পাঠানো হলেও কেন সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি?

শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার অধিকার সবার সমান। কোনো শিশুকে শিক্ষক সংকটের কারণে তার নিজ ধর্ম সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা উচিত নয়। হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এই সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator