৫জি rollout: অপারেটরদের বিনিয়োগ সংকট ও গ্রাহক প্রত্যাশার ফারাক | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

৫জি rollout: অপারেটরদের বিনিয়োগ সংকট ও গ্রাহক প্রত্যাশার ফারাক

কামরুল হাসান  avatar   
কামরুল হাসান
৫জি rollout: অপারেটরদের বিনিয়োগ সংকট ও গ্রাহক প্রত্যাশার ফারাক
৫জি rollout: অপারেটরদের বিনিয়োগ সংকট ও গ্রাহক প্রত্যাশার ফারাক
ছবি: সংগৃহীত
গত বছর ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সংস্থা টেলিটক সীমিত পরিসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৫জি সেবা চালু করার পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন ...

গত বছর ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সংস্থা টেলিটক সীমিত পরিসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ৫জি সেবা চালু করার পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল। তবে, এই প্রাথমিক উন্মোচনের প্রায় বছরখানেক পর এসেও বেসরকারি অপারেটরদের বাণিজ্যিক ৫জি রোলআউটে দৃশ্যমান ধীরগতি বিনিয়োগ সংকট এবং গ্রাহক প্রত্যাশার ফারাককে প্রকট করে তুলছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক গত মার্চ মাসে ৫জি স্পেকট্রামের নিলাম সম্পন্ন হলেও, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো বড় অপারেটরদের ব্যাপকভিত্তিক ৫জি অবকাঠামো নির্মাণে যে বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন, তার বিপরীতে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়।

অপারেটরদের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ স্পেকট্রাম মূল্য এবং সেই অনুপাতে প্রত্যাশিত আয় না হওয়া। বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের মূল্য বেশ প্রতিযোগিতামূলক, যা অপারেটরদের উপর প্রাথমিক বিনিয়োগের চাপ বাড়াচ্ছে। গ্রামীণফোন ও রবি সীমিত পরিসরে ৫জি পরীক্ষা চালাচ্ছে, কিন্তু দেশজুড়ে কাঙ্ক্ষিত কভারেজ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগ কেবল রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক (RAN) স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ফাইবার অপটিক ব্যাকহল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, ফোরজি নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ এবং বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো মৌলিক অবকাঠামোতেও ব্যয় করতে হবে। অপারেটররা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানের মাধ্যমে এই বিশাল বিনিয়োগের রিটার্ন অর্জন করা কঠিন হবে, বিশেষত যখন ফোরজি নেটওয়ার্ক এখনও দেশের অনেক অঞ্চলে অপ্টিমাইজেশনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ডেটার মূল্য সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।

অন্যদিকে, গ্রাহকদের মধ্যে ৫জি নিয়ে এক ধরনের উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বাজার এবং উন্নত দেশগুলোর ৫জি অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত। তারা ৫জি মানেই বিদ্যুত-গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন স্ট্রিমিং এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী সেবা আশা করে। কিন্তু দেশের বর্তমান ফোরজি নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স এবং ডেটার দামের কারণে অনেক গ্রাহকই ৫জি’র জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে প্রস্তুত নন, যতক্ষণ না পর্যন্ত এর সুস্পষ্ট ও বাস্তব ব্যবহারিক সুবিধাগুলো প্রমাণিত হয়। এ ক্ষেত্রে, আইসিটি ডিভিশন এবং এটুআই-এর মতো সংস্থাগুলোর উচিত হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং স্মার্ট সিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ৫জি-ভিত্তিক উদ্ভাবন প্রদর্শনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে ৫জি’র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। অপারেটরদের বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সরকারকেও নীতি সহায়তা এবং অবকাঠামো ভাগাভাগির মতো বিষয়গুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে ৫জি শুধু উচ্চগতির ইন্টারনেট না হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি স্তম্ভে পরিণত হয়।

অপারেটর ৫জি স্পেকট্রাম (মেগাহার্টজ) মোট স্পেকট্রাম মূল্য (কোটি টাকা) প্রাথমিক ৫জি রোলআউট স্ট্যাটাস (২০২৩)
গ্রামীণফোন ৬০ (৩৫০০ MHz ব্যান্ড) ১,২৪১.৪ সীমিত পরীক্ষামূলক, বাণিজ্যিক রোলআউট পরিকল্পনাধীন
রবি আজিয়াটা ৬০ (৩৫০০ MHz ব্যান্ড) ১,২৪১.৪ সীমিত পরীক্ষামূলক, বাণিজ্যিক রোলআউট পরিকল্পনাধীন
বাংলালিংক ৪০ (৩৫০০ MHz ব্যান্ড) ৮২৬.৫ সীমিত পরীক্ষামূলক, বাণিজ্যিক রোলআউট পরিকল্পনাধীন
টেলিটক ৬০ (৩৫০০ MHz ব্যান্ড) বিনামূল্যে (সরকারি সংস্থা) সীমিত বাণিজ্যিক রোলআউট (২০২১ ডিসেম্বর)

উৎস: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ৫জি স্পেকট্রাম নিলাম ফলাফল ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন।

সুপারিশ

  • বিটিআরসিকে অবশ্যই অপারেটরদের জন্য স্পেকট্রাম ফি এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ফাইবার অপটিক ব্যাকহলের মতো নিষ্ক্রিয় অবকাঠামো শেয়ারিং নীতি (Infrastructure Sharing Policy) পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে বিনিয়োগের বোঝা কমানো যায় এবং সারাদেশে দ্রুত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হয়।
  • ICT Division এবং a2i কে যৌথভাবে শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ৫জি-ভিত্তিক উদ্ভাবনী ব্যবহারের (use cases) জন্য পাইলট প্রকল্প চালু করতে হবে এবং এ জন্য BHTPA এর হাই-টেক পার্কগুলোতে ৫জি ল্যাব ও টেস্টবেড স্থাপন করে BASIS এর সহায়তায় স্থানীয় ডেভেলপারদের উৎসাহিত করতে হবে।
  • সরকারকে ৫জি ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে কর প্রণোদনা, বিশেষত ৫জি ডিভাইস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের উপর ভ্যাট ও শুল্ক হ্রাস করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে, যা গ্রাহকদের জন্য ৫জি ডিভাইস সহজলভ্য করবে এবং ৫জি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করবে।

✍️ নিবন্ধ লেখক: কামরুল হাসান

কামরুল হাসান 'আই নিউজ বিডি'-র একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষক। তাঁর বিশেষত্বের জায়গা: টেলিকম, ৫জি ও ইন্টারনেট অবকাঠামো। এই নিবন্ধটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে সংকলিত।

Nema komentara


News Card Generator