ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকায় চরম হতাশ পাকিস্তানিরা | আই নিউজ বিডি

ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকায় চরম হতাশ পাকিস্তানিরা..

রুহুল আমিন খান  avatar   
রুহুল আমিন খান
ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকায় চরম হতাশ পাকিস্তানিরা..
ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকায় চরম হতাশ পাকিস্তানিরা..
ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষ্ক্রিয়তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি নাগরিক ও সমর্থকরা। দীর্ঘ তিন বছর ধরে অন্ধকার সেলে বন্দি থাকা সত্..

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দীর্ঘ তিন বছরের কারাবাস এবং তার প্রতি বর্তমান আন্তর্জাতিক মহলের উদাসীনতা নিয়ে দেশটিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখা সমর্থকরা এখন চরম মাত্রায় হতাশ। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানকে একক কারাবাস বা সলিটারি কনফাইন্ডমেন্টে রাখা হয়েছে এবং তাকে পরিবার ও বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তার সমর্থকরা আশা করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী কোনো নেতার হস্তক্ষেপে তার মুক্তির পথ সুগম হবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো জোরালো পদক্ষেপ বা ইতিবাচক বার্তা না আসায় সেই আশায় গুড়ে বালি পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথের আলোচনায় এখন একটাই প্রশ্ন—কেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই শীর্ষ নেতার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিচ্ছে না?

ইমরান খানের কারাবাসের এই তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার দলের নেতাকর্মীরা নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ইমরান খান মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাকে কেবল রাজনীতি থেকে দূরেই রাখা হয়নি, বরং মৌলিক মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে না দেওয়া এবং বাইরের তথ্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি নিয়ে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের জয়লাভের পর অনেকেই ভেবেছিলেন পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সমীকরণে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে এবং ইমরান খানের মুক্তির বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে। তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের বর্তমান নীরবতা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের প্রতি সাধারণ পাকিস্তানি ও পিটিআই সমর্থকদের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক জটিল ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে কারাবন্দি ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ও সমর্থকদের সংকল্প অটুট রয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অভাব এবং বর্তমান ক্ষমতার বলয়ের কঠোর দমনপীড়নের কারণে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আগামী দিনে এই হতাশা কীভাবে রূপ নেয় এবং পিটিআইয়ের পরবর্তী কৌশল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোর্স: www.youtube.com

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator