ফুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এনসিপি নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাট.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এনসিপি নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাট..

Md Anisur Rahman avatar   
Md Anisur Rahman
ফুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এনসিপি নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাট..
ফুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এনসিপি নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাট..
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ফুলপুরে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।..

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ছনধরা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়িতে গত কয়েক দিন আগে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জের ধরে এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত বেআইনিভাবে হাবিবুর রহমানের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা বাড়ির আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও মূল্যবান মালামাল তছনছ করে এবং লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটি মাদকের সিন্ডিকেটের শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জননিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব দাবি করেছেন যে, এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। হাবিবের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও প্রদান করে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের দাবি, স্থানীয় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অর্থই হলো নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এই হামলার ফলে ভুক্তভোগীর পারিবারিক জীবনে যে স্থবিরতা ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনিক উদাসীনতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত মো. সেলিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করলেই হবে না, বরং মাদকের বিরুদ্ধে যারা সাহসী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের জোরালো দাবি, অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং এলাকায় মাদকের আস্তানাগুলো গুড়িয়ে দিতে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হোক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তায়।

ফুলপুরের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সমাজে মাদকের প্রভাব কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কথা বলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার ঘটনা যদি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার না হয়, তবে ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনগুলো স্তিমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এক ধরনের অশুভ ছায়া ফেলেছে। সমাজ থেকে মাদকের করাল গ্রাস দূর করতে হলে শুধুমাত্র স্থানীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এই হামলার বিচারহীনতা ভবিষ্যতে অপরাধীদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলবে, যা সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় অশনিসংকেত।

Walang nakitang komento


News Card Generator