সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তিনি জানান, চলতি অর্থবছরেই প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারীর পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে
মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত সরকার দীর্ঘ ১১ বছরেও তা বাস্তবায়ন করেনি পে-স্কেল বাস্তবায়নের কারণে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা চাপ ও আর্থিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়নে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তারা সুপারিশ চূড়ান্ত করে এনেছেন
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে উক্ত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দাখিল করে কমিশনের প্রতিবেদনে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে মূল বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয় এর মাধ্যমে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়
অন্যদিকে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে সেবা দিয়ে আসছেন, অথচ এ সময়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে এসব বিষয় বিবেচনা করেই সরকার চলতি অর্থবছর থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত হাতে নিয়েছে