নবম জাতীয় পে-স্কেলে বিদ্যমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি একইসঙ্গে সচিব কমিটির প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতন আরও কাটছাঁট করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি শনিবার সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত যৌথ এক বিবৃতিতে এই দাবি ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলে তা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় কিন্তু অতীতের বিভিন্ন পে-স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবকে অপ্রতুল আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, এটি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে
সংগঠনটির মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রামের পর নবম পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে কিন্তু এর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না তারা জানায়, ২০২০ ও ২০২৫ সালের দুটি পে-স্কেল না পাওয়ার কারণে জাতীয় বেতন কমিশনের সভায় দুটি স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতনের দাবি জানানো হয়েছিল তবে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার স্থানে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করায় বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে
নেতাজীবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও আরও কমিয়ে দেয়, তবে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না এতে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে অস্থিরতা, অভাব ও ক্ষোভ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে এই পরিস্থিতিতে সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন বেতনের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি