দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাস্তবতার ব্যবধান.... | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাস্তবতার ব্যবধান....

মো. রিদওয়ান আল হাসান avatar   
মো. রিদওয়ান আল হাসান
দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাস্তবতার ব্যবধান....
দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাস্তবতার ব্যবধান....
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা এবং বাস্তবতা নিয়ে মো. রিদওয়ান আল হাসানের লেখা..

আশির দশকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল হিমায়িত চিংড়ি। কিন্তু, সময়ের পরিক্রমায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, আমাদের অসচতেনতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং আধুনিকায়নের অভাবে এই শিল্পটি আজ কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন। অথচ, বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে জ্বালানি তেল বা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ যতটা মূল্যবান, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ‘ব্লু গোল্ড’ হিসেবে চিংড়ি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার দাবি রাখে। বিশেষ করে, ২০২২ সালে জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘ব্ল্যাক টাইগার’ বা বাগদা চিংড়ি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে সমাদৃত। সঠিক পলিসি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়িত হলে এর ব্র্যান্ডিং এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও অনেক।

বাস্তব পরিস্থিতি: ক্রমহ্রাসমান রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা

সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লক্ষ বাষট্টি হাজার হেক্টর উপকূলীয় জমি চিংড়ি চাষের আওতাভুক্ত। এত বিশাল জলাশয় থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ও রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় হয়েছিল প্রায় প্রায় ৫ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। অথচ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানির পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার ১৩১ মেট্রিক টনে, যার বাজারমূল্য ছিল ২ হাজার ১১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা (২০৬ মিলিয়ন ডলার)। বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) এর গবেষণা অনুযায়ী, এই পরিমাণ ছিল এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ কম।  

বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে। এর বাইরে যুক্তরাজ্যে ১২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশ রপ্তানি হয়। ভেনামি এবং অন্যান্য কম মূল্যের চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা আগের মতো নেই।তবে, এটি এখন একটি ‘প্রিমিয়াম’ খাদ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে।কারণ, স্বাদ, রঙ আর সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে রুচিশীল এবং শৌখিন ক্রেতাদের কাছে বাগদা চিংড়ি অতুলনীয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মতো প্রিমিয়াম বাজারে বাগদা চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের বাগদার চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।অর্থাৎ, বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কেবল কাঠামোগত অদক্ষতার কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বৈশ্বিক বাজার হারাচ্ছে।

অপার সম্ভাবনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব

চিংড়ি খাতের এই চরম সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে তাঁর লেকচারে অত্যন্ত আক্ষেপ ও দৃঢ়তারসাথে বলেন, "বাগদা চিংড়ি আমাদের নিজস্ব সম্পদ, এটি বিলুপ্ত হতে দেয়া যায় না।" এই খাতের সাথে দেশের প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, যার মধ্যে সরাসরি কাজ করেন সাড়ে সাত লাখ কর্মী এবং প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার ক্ষুদ্র খামারি।

যদি যথাযথ সচেতনতা, খামারিদের বায়োসেফটি দেয়া, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই খাতের খোলনলচে পাল্টে ফেলা যায়, তবে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অভাবনীয়। খাত সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভেনামি ও বাগদা চিংড়ি মিলিয়ে বাংলাদেশ অনায়াসেই এই খাত থেকে বছরে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৩ হাজার থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। চিংড়ি খাত থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারলে তা এককভাবে দেশের মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৮ থেকে ১ শতাংশের সমান অবদান রাখবে। বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাত থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। চিংড়ি খাত যদি ৩-৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে, তবে এটি সন্দেহাতীতভাবে আরএমজি খাতের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে এবং একক খাতের ওপর দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ: তিন স্তম্ভের সমন্বয়হীনতা

চিংড়ি শিল্পের এই বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো এর কাঠামোগত দুর্বলতা। এই শিল্পের মূল ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং এই তিনটি হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, প্রান্তিক খামার এবং হ্যাচারি বা পোনা উৎপাদন। দুঃখজনকভাবে এই তিনটি স্তম্ভ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামালের অভাবে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করে সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, "আমাদের ক্যাপাসিটি আছে, তবে, আমাদের লিডারশিপে ঘাটতি আছে। আমাদের প্রয়োজন পলিসি সাপোর্ট এবং যোগ্য নেতৃত্ব।" বর্তমানে দেশে ১০৮টি নিবন্ধিত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদনপ্রাপ্ত। এই কারখানাগুলোর মোট প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতা বছরে প্রায় চার লক্ষ মেট্রিক টন।

কিন্তু, খামার পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত কাঁচামাল বা চিংড়ি সরবরাহ না থাকায় কারখানাগুলো তাদের মোট সক্ষমতার ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহার করতে পারছে। বাকি ৯০ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত পড়ে থাকছে, যা বিনিয়োগের চরম অপচয়।

এই কাঁচামাল সংকটের মূল কারণ লুকিয়ে আছে খামার পর্যায়ে। দেশের প্রায় দুই লক্ষ সত্তর হাজার চিংড়ি খামারি অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে এক থেকে দুই একরের খামারে চাষাবাদ করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ খামারেই সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ফলে দেশে বাগদা চিংড়ির হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি। অথচ প্রতিযোগী দেশ ভারত বা ভিয়েতনামে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত চিংড়ি উৎপাদিত হয়, যা বাংলাদেশের তুলনায় দশ থেকে পনেরো গুণ বেশি।

হ্যাচারি খাতেও রয়েছে তীব্র সংকট। দেশে ৪৭টি নিবন্ধিত বাগদা চিংড়ির হ্যাচারি থাকলেও মাত্র ৩টি হ্যাচারি এসপিএফ বা রোগমুক্ত পোনা উৎপাদন করে। বেশিরভাগ হ্যাচারি এখনো সমুদ্র থেকে সংগৃহীত বন্য মা চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল, যা পোনার মান ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।      

এর পাশাপাশি রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর কমপ্লায়েন্স এবং ট্রেসিবিলিটি বা উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। আধুনিক ক্রেতারা জানতে চান যে চিংড়িটি তারা কিনছেন, সেটি কোন খামার থেকে এসেছে এবং সেখানে কোনো ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না। ইউরোপ এবং জাপানের বাজারে ট্রেসিবিলিটি বা ডিজিটাল উৎস শনাক্তকরণের প্রমাণ ছাড়া প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের মধ্যে এ সংক্রান্ত আইন পুরোপুরি কার্যকর হবে। কিন্তু, বাংলাদেশে এখনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের মাধ্যমে চিংড়ি সংগৃহীত হয়।ফলে খামার থেকে রপ্তানিকারক পর্যন্ত কোনো স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। মধ্যস্বত্বভোগীরা অনেক সময় অধিক মুনাফার জন্য ওজন বাড়াতে ক্ষতিকারক জেলিপুশ করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা কমে যাচ্ছে।

উত্তরণের উপায় এবং সুপারিশ

এই বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সৈয়দ মাহমুদুল হক আশার বাণী শুনিয়ে বলেছেন, "সমস্যা এড্রেস করতে পারলে সবকিছুরই সমাধান সম্ভব।" খাতের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে চিংড়ি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে একটি সুসমন্বিত রোডম্যাপ বা রূপরেখা বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

প্রথমেই খামার পর্যায়ে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রান্তিক চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। ছোট ছোট ও বিক্ষিপ্ত খামারগুলোকে একত্র করে ক্লাস্টার ফার্মিং বা সমবায়ভিত্তিক গুচ্ছ চাষ পদ্ধতি চালু করতে হবে। এতে করে কৃষকরা সম্মিলিতভাবে আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন পানির গুণগত মান রক্ষায় অ্যারেটর ব্যবহার করতে পারবেন এবং দালাল চক্রের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি প্রসেসিং কারখানায় চিংড়ি সরবরাহ করতে পারবেন।

খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা, মানসম্মত ফিড বা খাবারের ব্যবহার এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হ্যাচারি খাতের আধুনিকায়ন করে এসপিএফ বা রোগমুক্ত হ্যাচারি সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে বন্য পোনার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়। ক্ষুদ্র খামারিরা যেন মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য না হন, সে জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত ‘অ্যাকুয়াকালচার ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’ বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য ব্লকচেইন বা মোবাইলভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থায় ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে হ্যাচারি থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এছাড়া শুধু হিমায়িত কাঁচা চিংড়ি বা ব্লক রপ্তানি না করে রেডি টু কুক বা খাওয়ার উপযোগী প্যাকেটজাত পণ্য তৈরি করার মাধ্যমে ভ্যালু এডিশন বা মূল্য সংযোজন করা যেতে পারে। এই ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজারমূল্য সাধারণ চিংড়ির চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি হয়ে থাকে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশে চিংড়ি চাষের জন্য সুনির্দিষ্ট ‘স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি ও পরীক্ষাগার থাকবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়াম শ্রিম্প’ নামে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধা এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে যদি নীতিগত সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করা যায়, তবে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। কারখানার অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য এনে এবং প্রান্তিক চাষিদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ি অচিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারে। সঠিক কর্মপরিকল্পনা এবং যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এই শিল্পটি কেবল টিকে থাকার সংগ্রামই জয় করবে না, বরং বিশ্ব দরবারে একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

লেখাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অষ্টম সিমেস্টারের ‘অর্থনীতি ও ব্যবসায় সাংবাদিকতা’ কোর্সের অংশ হিসেবে অতিথি হিসেবে আগত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের (টিএসআই) এবং বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হকের প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী লেকচার, উপস্থাপনা এবং কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। 

লেখক, শিক্ষার্থী (শেষ বর্ষ), গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্র

১. বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) প্রেজেন্টেশন: https://shrimpfoundation.org/

২. মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ: https://www.fisheries.gov.bd/

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator