প্রযুক্তি যুদ্ধে ভারত কি চীনের এক ক্লিকেই অচল? | আই নিউজ বিডি

প্রযুক্তি যুদ্ধে ভারত কি চীনের এক ক্লিকেই অচল?

সাজিদ মাহমুদ  avatar   
সাজিদ মাহমুদ
প্রযুক্তি যুদ্ধে ভারত কি চীনের এক ক্লিকেই অচল?
প্রযুক্তি যুদ্ধে ভারত কি চীনের এক ক্লিকেই অচল?
ছবি: সংগৃহীত
এইচসিএল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় চৌধুরীর মতে, ভারতের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা চীনের জন্য বড় সুযোগ। তিনি ভারতকে 'প্রোডাক্ট নেশন' হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।..

ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াইয়ে ভারত কি চীনের কাছে এক ক্লিকেই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে? এই প্রশ্নটি এখন সামনে এনেছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব, এইচসিএল টেক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের প্রযুক্তি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগ এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও, ভারত এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল, যা একটি বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন যে, চীন বর্তমানে যেভাবে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তাতে ভারত যদি দ্রুত নিজেদের শক্তিশালী না করে, তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে। তিনি বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তির নির্ধারক হবে। চীন যদি এই ক্ষেত্রগুলোতে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে তারা সহজেই অন্য দেশগুলোকে, বিশেষ করে ভারতকে, প্রযুক্তিগতভাবে অচল করে দিতে পারে।

এইচসিএল সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভারতের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপও দিয়েছেন। তিনি ভারতকে 'প্রোডাক্ট নেশন' বা 'পণ্যভিত্তিক জাতি' হিসেবে গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এর অর্থ হলো, ভারতকে শুধু আমদানিকারক বা অ্যাসেম্বলার হিসেবে নয়, বরং বিশ্বমানের পণ্য উদ্ভাবন ও উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিপুল বিনিয়োগ, উদ্ভাবনী প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়া এবং একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করা যা নতুন প্রযুক্তি ও পণ্যের জন্ম দেবে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র 'মেক ইন ইন্ডিয়া' যথেষ্ট নয়, 'ইনভেন্ট ইন ইন্ডিয়া' বা 'ভারতে উদ্ভাবন' নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

অজয় চৌধুরীর এই বক্তব্য ভারতের নীতিনির্ধারক এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জন করা যেকোনো দেশের জন্য অপরিহার্য। যে দেশ প্রযুক্তিতে যত বেশি স্বাবলম্বী হবে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভারতের উচিত চীনের প্রযুক্তিগত উত্থানকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে না দেখে, নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে শক্তিতে রূপান্তর করার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রে এখনই বিনিয়োগ না করলে, ভারত হয়তো অনেক পিছিয়ে পড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

সোর্স: www.youtube.com

לא נמצאו הערות


News Card Generator