এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর অপেক্ষা করে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যে নিয়ম প্রচলিত আছে, তা তাদের শিক্ষাজীবনে হতাশা সৃষ্টি করছে এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে অথবা মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং-এর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে এই পরিস্থিতিতে, এই দুই পাবলিক পরীক্ষায় সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক পরীক্ষা চালু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে
সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা হলো এমন একটি বিশেষ ব্যবস্থা যেখানে একজন শিক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে, পরীক্ষার ফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এর ফলে শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করতে হয় না এবং তারা দ্রুত পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় এতে তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হয় না এবং অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কমে আসে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে
অন্যদিকে, জিপিএ উন্নয়নের জন্য যারা পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়, তাদেরও একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পরবর্তী শ্রেণিতে বা অন্য কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর পূর্ববর্তী শ্রেণির সকল বিষয়ে (১২-১৩টি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য এক বিরাট মানসিক চাপের সৃষ্টি করে এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেক শিক্ষার্থী হয় জিপিএ উন্নয়নের চিন্তা বাদ দেয়, নতুবা এক বছর ড্রপ দিয়ে শুধু এই লক্ষ্যেই অধ্যয়ন করে এতে তারা তাদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন থেকে বঞ্চিত হয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে ফেল করা বা গ্রেড উন্নয়ন করতে ইচ্ছুকদের জন্য যেখানে এক বা দুটি বিষয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে, সেখানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ না থাকা বৈষম্যমূলক যেহেতু বড়দের জন্য এই সুবিধা বিদ্যমান, তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্যও একই রকম সহজ নিয়ম থাকা উচিত তাই, বিদ্যমান নিয়মের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু করে এক বা দুই বিষয় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এবং জিপিএ উন্নয়নপ্রত্যাশীদের (সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে) অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া অতি আবশ্যক