আগামীকাল শুক্রবার ১৪ আগস্ট পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাঙ্গুনিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য স্বাগতর্যালি ও জুলুস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও শান্তির বাণী সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার প্রতিনিধিরাসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। বিকেল সাড়ে ২টায় রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কুষ্ট হাসপাতাল গেইট এলাকা থেকে জুলুসটি যাত্রা শুরু করবে এবং কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে পোমরা শান্তিরহাটে গিয়ে সমাপ্ত হবে। এই জুলুসটি মূলত ইসলামি সংস্কৃতি ও শরিয়াহর আলোকে মহানবীর ত্যাগের মহিমা প্রচারের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান অস্থির সময়ে মহানবীর শান্তির দর্শন প্রচারের কোনো বিকল্প নেই। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জুলুসটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা জনজীবনে কোনো প্রকার ভোগান্তির সৃষ্টি না হয়। এই র্যালিতে অংশ নেওয়া ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের মতে, রবিউল আউয়াল মাস কেবল একটি ক্যালেন্ডারের মাস নয়, বরং এটি মহানবীর আদর্শে নিজেদের জীবন গড়ার একটি সুযোগ, যা এই জুলুসের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে। রুট ডাইনামিক্স অনুযায়ী, কাপ্তাই সড়কের ব্যস্ততম এই পথ দিয়ে জুলুসটি অতিক্রম করার সময় স্থানীয়দের মধ্যে ধর্মীয় আমেজ ও সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস চালানো হবে।
কর্মসূচি সফল করতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আকতার হোসেন ও সচিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম সর্বস্তরের মুসলমানদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জুলুসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হাফেজ ক্বারী মুহাম্মদ সোলায়মান আনসারী এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অ্যাডভোকেট এম ইকবাল হাছান। সভাপতিত্ব করবেন মুহাম্মদ করিম উদ্দিন হাছান। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজক কমিটি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে এই ধর্মীয় জমায়েতটি যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শেষ হয়, সে বিষয়ে আয়োজকরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এই বর্ণাঢ্য জুলুসটি রাঙ্গুনিয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতি বছর এই ধরণের ধর্মীয় আয়োজনের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মহানবীর আদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে, রাঙ্গুনিয়ার রাজপথে ইসলামী ফ্রন্টের এই বিশাল শোডাউন কেবল একটি ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং এটি ইসলামি মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য হবে। আগামী দিনের পথচলায় এই ধরণের কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের মধ্যে নৈতিক জাগরণের পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।