“পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার কোনটা? যেখানে লোহার শিকল নেই, তবুও মানুষ বন্দি, যেখানে আকাশ আছে, তবুও স্বাধীনতাটুকু নেই?”—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে এভাবেই সুগভীর এক মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।
নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি চলমান বিশ্বের নিপীড়িত জনপদের করুণ চিত্র তুলে ধরে লেখেন, অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এই অদৃশ্য কারাগারগুলোর নাম একেক স্থানে একেক রকম। কোথাও কাশ্মীর, কোথাও কান্দাহার, কোথাও ফিলিস্তিন, আবার কোথাওবা উইঘুর। সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে প্রতিদিন এসব অঞ্চলের রক্তক্ষরণ ফুটে উঠলেও বিশ্ববাসী দ্রুতই তা ভুলে যায়। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদের সেসব শুষ্ক সংখ্যার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া অগণিত মানুষের কাছে এটি কোনো সাময়িক খবর নয়, এটাই তাদের নিত্যদিনের নির্মম বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ের জুলুম-নির্যাতন নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা মোস্তফা জামান। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, অজান্তেই অনেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘জেল সুপার’ বা ‘জেলার’-এর মতো ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন ও নিরাপদ মানুষের ওপর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছেন। মুক্ত আকাশের নিচে এ ধরনের মানসিক ও সামাজিক কারাগার গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনটির শেষাংশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং নিজ নিজ সমাজে মজলুমের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। যার যার অবস্থান থেকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে আত্মতৃপ্তি লাভ করা অসম্ভব। পরকালের জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, সময় থাকতে সচেতন না হলে ইহকাল ও পরকালে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।
রাজনৈতিক সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বমানবতা ও আত্মোপলব্ধির এ বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।