দারিদ্র্যতাকে পিছনে ফেলে যশোরের মাছ বিক্রেতার যমজ দুই মেয়ের চমক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দারিদ্র্যতাকে পিছনে ফেলে যশোরের মাছ বিক্রেতার যমজ দুই মেয়ের চমক..

রাসেল মাহমুদ avatar   
রাসেল মাহমুদ
দারিদ্র্যতাকে পিছনে ফেলে যশোরের মাছ বিক্রেতার যমজ দুই মেয়ের চমক..
দারিদ্র্যতাকে পিছনে ফেলে যশোরের মাছ বিক্রেতার যমজ দুই মেয়ের চমক..
ছবি: সংগৃহীত
****

যশোর সদরের শেষ প্রান্ত প্রত্যন্ত গ্রামের একটি পরিবারে অভাব-অনটন যেন নিত্যসঙ্গী। সংসারের ব্যয় মেটাতে বাবা বিক্রি করেন মাছ। সেই টানাপোড়েনের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে যমজ দুই বোন অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস। তাদের এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস যশোর জেলার প্রত্যন্ত কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্থানীয় মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

তাদের বাবা অনুকূল চন্দ্র বিশ্বাস পেশায় একজন মাছ বিক্রেতা। যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় মাছ বিক্রি করে সংসার চালান। সীমিত আয়ের মধ্যেই দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে গেছেন তিনি।

পরিবারের অভাব-অনটন দুই বোনের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে একই সঙ্গে যমজ দুই বোনের জিপিএ-৫ অর্জনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অঙ্কিতা ও অনুসূয়ার মা অঞ্জলী রানী জানান, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি দুই বোনের আগ্রহ ছিল। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। বাবা মাছ বিক্রি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন।

সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস জানায়, তাদের স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়া। ভালোভাবে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় তারা। এ জন্য ভবিষ্যতেও কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চায় দুই বোন।

তাদের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা অনুকূল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, অভাবের সংসারে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। মাছ বিক্রি করে যতটুকু আয় হয়, তা দিয়েই তাদের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। দুই মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় তার কষ্ট সার্থক হয়েছে। মেয়েরা ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে, এটাই তার প্রত্যাশা।

মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, অঙ্কিতা ও অনুসূয়ার সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। প্রত্যন্ত এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ভালো ফলাফল করা সম্ভব, যমজ দুই বোনের সাফল্য তারই উদাহরণ।

দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যমজ দুই বোনের এই অর্জন শুধু পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি, বরং পুরো এলাকায় সৃষ্টি করেছে অনুপ্রেরণার গল্প। এখন তাদের স্বপ্ন, শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপেও সাফল্যের ধারা ধরে রেখে একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

 

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator