যন্ত্রণায় কাতরালেন মা, মিলল না চিকিৎসা-অটোরিকশায় সন্তান প্রসব.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

যন্ত্রণায় কাতরালেন মা, মিলল না চিকিৎসা-অটোরিকশায় সন্তান প্রসব..

Rakibul Islam avatar   
Rakibul Islam
যন্ত্রণায় কাতরালেন মা, মিলল না চিকিৎসা-অটোরিকশায় সন্তান প্রসব..
যন্ত্রণায় কাতরালেন মা, মিলল না চিকিৎসা-অটোরিকশায় সন্তান প্রসব..
ছবি: সংগৃহীত
পৌনে তিন ঘণ্টা প্রসব যন্ত্রণায় কাতরানোর পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান জন্ম দিয়েছেন এক নারী।..

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি বিভাগের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা প্রসব যন্ত্রণায় কাতরানোর পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান জন্ম দিয়েছেন এক নারী।

শনিবার রাতের এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোছা. রঞ্জনা খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দিঘর গ্রামের এক হোটেল দিনমজুরের স্ত্রী।

স্বজনদের অভিযোগ, রাত ৮টার দিকে প্রসব বেদনায় কাতর রঞ্জনা খাতুনকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে প্রসূতি বিভাগে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক বা মিডওয়াইফকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।

স্বজনেরা জানান, প্রসবের সময় রঞ্জনার গর্ভের পানি ভেঙে যাচ্ছিল এবং রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তিনি তীব্র যন্ত্রণায় হাসপাতালের বারান্দায় কাতরাচ্ছিলেন। এ সময় স্বজনেরা বারবার চিকিৎসাসেবার জন্য অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। বরং অন্য ওয়ার্ডের নার্সদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।

রঞ্জনার দেবর জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘ভাবি না পারছিলেন দাঁড়াতে, না পারছিলেন বসতে। চারপাশ রক্ত ও পানিতে ভেসে যাচ্ছিল। পৌনে তিন ঘণ্টা ধরে চিৎকার করেছি, কিন্তু নার্সদের মন গলেনি। উল্টো গালমন্দ করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সেবা দেওয়ার মানুষই যদি না থাকে, তাহলে রোগী ভর্তি করা হলো কেন?’

পরে রঞ্জনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্বজনেরা তাকে বগুড়ার শেরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রওনা হওয়ার পর পথেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। গাদাগাদি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিশুটির জন্ম হয়।

এদিকে ঘটনার তথ্য প্রকাশ না করতে প্রসূতির পরিবারকে স্থানীয় কয়েকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএফএম ওবায়দুল ইসলামের বক্তব্য জানতে রোববার বিকেলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সকালে জেনেছি। রাতে রোস্টারে থাকা দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে। একজনকে শোকজ করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে রাস্তায় শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি।’

ঘটনার পর রায়গঞ্জে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু শোকজ বা সাময়িক ব্যবস্থা নিলেই হবে না; দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator