গোয়ালকান্দি ও হিরারকান্দা রাংসা সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির নির্মাণকাজ গত এক বছর ধরে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে আছে, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রকৌশলগত গুরুতর অনিয়ম এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম অবহেলার কারণে প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থমকে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত একটি প্রকল্পের নকশা ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল, তা না থাকার কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে বর্তমানে সাধারণ মানুষকে চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের শুরুতে যে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা ছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্রিজটি তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলেও বর্তমানে এটি একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই পথে চলাচল করা এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আশা করে ছিলাম যে ব্রিজটির কাজ দ্রুত শেষ হবে, কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমানে আমাদের বিকল্প পথে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা আমাদের সময় ও অর্থ উভয়ই নষ্ট করছে। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যখন চলাচলের জন্য আর কোনো নিরাপদ রাস্তা অবশিষ্ট থাকে না। নির্মাণাধীন ব্রিজের ভাঙাচোরা অংশের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও স্থানীয়রা বারবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়সারা অজুহাত দেওয়া হলেও, প্রকৌশলগত ভুল সংশোধনে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এলজিইডির স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করে এলাকাবাসী বলছেন, প্রশাসনের যথাযথ তদারকি থাকলে ঠিকাদাররা এভাবে কাজ ফেলে রেখে চলে যেতে পারতেন না। স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, দ্রুত এই অনিয়ম তদন্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
ব্রিজ নির্মাণের এই দীর্ঘসূত্রতা কেবল একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি অবিলম্বে এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা না হয়, তবে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামোর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না হলে এই ধরনের প্রকল্পের ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করে জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের নিকট প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।