মহাবিস্ফোরক কিনারায় পারস্য: ওয়াশিংটনের লক্ষ্যভেদ নাকি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মহাবিস্ফোরক কিনারায় পারস্য: ওয়াশিংটনের লক্ষ্যভেদ নাকি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
মহাবিস্ফোরক কিনারায় পারস্য: ওয়াশিংটনের লক্ষ্যভেদ নাকি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?..
মহাবিস্ফোরক কিনারায় পারস্য: ওয়াশিংটনের লক্ষ্যভেদ নাকি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?..
ছবি: সংগৃহীত
দূরবর্তী আগুনের আঁচ: বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিপর্যয়:
- সালাউদ্দিন আকবর , ঢাকা
স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আশাকে ছাইচাপা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ফের বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ গেম এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার চূড়ান্ত গন্তব্য আসলে কোথায়?
 
আমেরিকা আসলে চাচ্ছেটা কি?
 
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে মার্কিন প্রশাসন ‘আত্মরক্ষামূলক’ অ্যাখ্যা দিলেও এর পেছনের কৌশলটি বহুমুখী:
  • বাধ্যতামূলক চুক্তি: ওয়াশিংটন চায় তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ সামরিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের একটি নতুন ও অর্থবহ চুক্তিতে বাধ্য করা।
  • হরমুজ প্রণালী :বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি তেল সরবরাহের রুট—হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইরানের সামরিক আধিপত্য খর্ব করা।
  • ভৌগোলিক মিত্রতা: আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলের ওপর থেকে সামরিক চাপ কমানো।
 
সংঘাতের নতুন বিস্তার
 
নতুন করে হামলা ও পাল্টা আঘাতের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার, সামরিক নজরদারি ও যোগাযোগ অবকাঠামো টার্গেট করে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে । বিপরীতে, তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ইরানের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো বিপর্যস্ত হওয়ার পথে রয়েছে। এমনকি কুয়েতের আকাশসীমায় সতর্কতা জারি ও বাহরাইনে সাইরেন বাজার ঘটনা পরিস্থিতিকে এক আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
 
এ যুদ্ধের বৈশ্বিক ভয়াবহতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
 
এই উত্তেজনার পারদ যদি না কমে, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ:
১. বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হতে পারে।
২. বিস্তৃত অঞ্চলে যুদ্ধ: সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাযুদ্ধের ঘূর্ণাবর্তে ফেলতে পারে।
৩. মানবিক বিপর্যয়: ব্যাপক প্রাণহানি ও শরণার্থী সমস্যা ছাড়াও বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
 
দূরবর্তী আগুনের আঁচ: বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিপর্যয়
 
এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর পরোক্ষ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ছায়া সরাসরি এসে আছড়ে পড়বে বাংলাদেশের ওপরও:
  • জ্বালানি সংকট ও আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প-কারখানার খরচ বাড়ায় নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
  • রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ধস: কুয়েত, বাহরাইন বা সৌদির মতো দেশগুলো যুদ্ধের কবলে পড়লে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী কর্মসংস্থান হারাবেন, যা ডলার সংকটকে আরও তীব্র করবে।
  • পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা: মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ অনিরাপদ হলে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাবে এবং পশ্চিমা ক্রেতারা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনা কমিয়ে দিতে পারে।
 
উপসংহার
 
পরিস্থিতি এখন এমন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির চেয়ে ভুল বোঝাবুঝি বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি শতগুণ বেশি। যেকোনো সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
 
লেখক ও কলামিস্ট ।
 
Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator