সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্'র 'জাহাজী': সারেঙ্গের জীবন। | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্'র 'জাহাজী': সারেঙ্গের জীবন।

Muhammad Al Emran avatar   
Muhammad Al Emran
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্'র 'জাহাজী': সারেঙ্গের জীবন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্'র 'জাহাজী': সারেঙ্গের জীবন।
ছবি: সংগৃহীত
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্'র 'জাহাজী' ছোটগল্প নিয়ে ‎
‎মুহাম্মদ আল ইমরান এর লেখা।..

সমুদ্র কখনও শুধু জলরাশি নয়—এটি এক অন্তহীন শূন্যতা, যেখানে মানুষ নিজেকেই আবিষ্কার করে, আবার হারিয়েও ফেলে। “জাহাজী” ছোটগল্পটি ঠিক সেই শূন্যতার গল্প, যেখানে একজন মানুষের বাইরের যাত্রা ধীরে ধীরে ভেতরের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়। সারেঙ্গের ক্ষমতা দূর্বলতার ও মানবতার মধ্যে দিয়ে স্রোত অতিবাহিত।

‎
‎গল্পের করিম সারেঙ্গ চরিত্রটি আমাদের পরিচিত কোনো নায়ক নয়; বরং সে এক নিঃসঙ্গ মানুষ, যে নিজের অস্তিত্বকে বুঝতে চায়। সমুদ্রের বিশালতা তার কাছে মুক্তির নয়, বরং এক অদৃশ্য চাপ—যেখানে সে নিজেকে আরও ক্ষুদ্র, আরও বিচ্ছিন্ন মনে করে। এই অনুভূতিই গল্পটিকে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক স্তরে নিয়ে যায়।
‎
‎“জাহাজী” পড়তে পড়তে মনে হয়, মানুষ আসলে কোথায় বাস করে—সমাজে, নাকি নিজের ভেতরে? গল্পটি সেই প্রশ্ন তোলে, কিন্তু সহজ কোনো উত্তর দেয় না। বরং পাঠককে এক ধরনের অস্তিত্বের ভাবনার মধ্যে ফেলে রাখে। এটিই যেন গল্পটির শক্তি।
‎
‎ভাষা অত্যন্ত সংযত, কিন্তু তার মধ্যেই রয়েছে তীব্রতা। কোথাও অতিরঞ্জন নেই, অথচ প্রতিটি বাক্য যেন একেকটি ঢেউ—নীরব কিন্তু গভীর। লেখক এখানে ঘটনাকে নয়, অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গল্প গড়েছেন, যা আধুনিক সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
‎
‎সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো গল্পটির 'ক্যাথারসিস'। এটি কোনো প্রচলিত আবেগমুক্তি নয়, যেখানে পাঠক কেঁদে হালকা হয়ে যায়। বরং এক ধরনের নীরব উপলব্ধি—যেখানে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের ভেতরের একাকীত্বই তার সবচেয়ে বড় সত্য। ছোটগল্পটির শেষ করেছেন লেখক, "ও তাকাল না" লিখে। করিম সারেঙ্গ ছত্তারের তাকানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটা ঘটল না। তখন করিম সারেঙ্গ নিশ্চয়ই একাকিত্বের দৃঢ়তা উপলব্ধি করেছে। এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে জমে উঠেছিল সমুদ্রের জলে এবং শেষে এক গভীর চিন্তার দরজা খুলে দেয় লেখক, "তুমি কী দিলে আমাকে, আর আমি কী দিলাম তোমাকে?" এই প্রশ্নের কোন উত্তর মেলেনি বরং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ বলেছেন, "প্রশ্নের কাঁটার মধ্যেই তো মানুষের জীবনের অবসান ঘটে।"
‎
‎“জাহাজী” তাই শুধু একটি গল্প নয়; এটি এক অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ। যারা সাহিত্যে চিন্তা, নিঃসঙ্গতা এবং অস্তিত্বের প্রশ্ন খোঁজেন, তাদের জন্য এটি এক অনিবার্য পাঠ।
‎
‎মুহাম্মদ আল ইমরান
‎শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
Keine Kommentare gefunden


News Card Generator