দিনের আলোতেই কেরানীগঞ্জে মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দিনের আলোতেই কেরানীগঞ্জে মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা

ইস্পাহানী ইমরান avatar   
ইস্পাহানী ইমরান
দিনের আলোতেই কেরানীগঞ্জে মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা
দিনের আলোতেই কেরানীগঞ্জে মাদকের প্রকাশ্য বেচাকেনা
ছবি: সংগৃহীত
অলিগলি থেকে নদীপাড়, একাধিক এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ; ভয়ে মুখ খুলছেন না স্থানীয়রা..

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারের আড়ালে নয়, বরং দিনের বেলাতেই বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক কেনাবেচা চলছে। এর ফলে শিশু-কিশোরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর, আমবাগিচা খেলার মাঠ এলাকা, জেলেপাড়া, খালপাড়, নতুন শুভাঢ্যা, কালীগঞ্জ, ইস্পাহানি, চুনকুটিয়া, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা, বেড়িবাঁধ সড়ক, থানা রোড, জিনজিরা, ভাগনা ও কদমতলীসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক লেনদেনের অভিযোগ উঠে আসে।

তবে এসব মাদক কোথা থেকে আসছে, কারা এর পেছনে সক্রিয় এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেকেই নিরাপত্তার শঙ্কায় পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতে হামলা, সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

কদমতলী এলাকার এক ব্যবসায়ী, যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানান, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার জেরে তিনি একসময় হামলার শিকার হন। এরপর থেকে তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তার মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করা এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই তার চোখের সামনে মাদক কেনাবেচা হতে দেখেন। তবে ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেন না।

এদিকে, সরেজমিনে কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদকসেবী ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, "মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে পুলিশের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাদক নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি শুধু কেরানীগঞ্জের সমস্যা নয়, সারা দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। জনসচেতনতা ও জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়।"

Inga kommentarer hittades


News Card Generator