“পুরস্কার নাকি প্রতারণা?”—বাংলাদেশে সম্মাননা বাণিজ্যের আড়ালের বাস্তবতা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

“পুরস্কার নাকি প্রতারণা?”—বাংলাদেশে সম্মাননা বাণিজ্যের আড়ালের বাস্তবতা..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
“পুরস্কার নাকি প্রতারণা?”—বাংলাদেশে সম্মাননা বাণিজ্যের আড়ালের বাস্তবতা..
“পুরস্কার নাকি প্রতারণা?”—বাংলাদেশে সম্মাননা বাণিজ্যের আড়ালের বাস্তবতা..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন ধরনের প্রতারণা উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার লাভ করেছে—‘সম্মাননা’ বা ‘পুরস্কার’ বাণিজ্য।
- সালাউদ্দিন আকবর..

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন ধরনের প্রতারণা উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার লাভ করেছে—‘সম্মাননা’ বা ‘পুরস্কার’ বাণিজ্য। যেখানে মেধা, অবদান কিংবা যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে তথাকথিত পুরস্কার, উপাধি এমনকি ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রিও। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এক শ্রেণির অসাধু চক্র মানুষের সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে এই প্রতারণামূলক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, স্থায়ী কার্যালয় বা গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের প্রচার করে। নামের সঙ্গে ‘ফাউন্ডেশন’, ‘কাউন্সিল’, ‘গ্লোবাল রিসার্চ সেন্টার’ ইত্যাদি শব্দ যুক্ত করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ভুয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট (Honorary Doctorate) বিক্রি। অস্তিত্বহীন বা অস্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ‘ডক্টর’ উপাধি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে University Grants Commission (UGC) ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতারণার কৌশল প্রায় একই রকম। প্রথমে ফোন, ইমেইল বা ইনবক্সে জানানো হয়—আপনি সমাজসেবা, শিক্ষা, সাহিত্য বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর অনুষ্ঠানের খরচ, রেজিস্ট্রেশন ফি, ক্রেস্ট বা সার্টিফিকেট বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ পরিশোধ করলেই মিলছে ‘সম্মাননা’।

অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে পুরস্কার প্রদানের লোভ দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের ঘটনাও সামনে এসেছে।

এসব পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে নেই কোনো স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়া বা বিচার-বিশ্লেষণ। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই একাধিক ব্যক্তিকে একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। অনেক সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ব্যবসায়িক মডেল’, যেখানে পুরস্কার নিজেই পণ্য।

এই ভুয়া সম্মাননা বা উপাধি ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের পরিচয়ে ‘ডক্টর’ বা ‘অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত’ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছেন। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি প্রতারণা এবং জালিয়াতির শামিল।

 

 

 

לא נמצאו הערות


News Card Generator