রায়ের বজ্রাঘাতে কেঁপে উঠুক পাশবিকতার অন্ধকার | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রায়ের বজ্রাঘাতে কেঁপে উঠুক পাশবিকতার অন্ধকার

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
রায়ের বজ্রাঘাতে কেঁপে উঠুক পাশবিকতার অন্ধকার
রায়ের বজ্রাঘাতে কেঁপে উঠুক পাশবিকতার অন্ধকার
ছবি: সংগৃহীত
বহুল আলোচিত রামিসা ধর্ষণ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।..

- সালাউদ্দিন আকবর, ঢাকা 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেওয়া আদালতের রায় যেন শুধু দুটি অপরাধীর বিরুদ্ধে ঘোষিত শাস্তিই নয়, বরং সমগ্র সমাজের বিবেকের পক্ষ থেকে উচ্চারিত এক কঠোর প্রতিধ্বনি। বহুল আলোচিত এ মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ ভুক্তভোগী শিশু রামিসার বাবা-মাকে দিতে হবে। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হবে।

রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেন, এই রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে। তিনি বলেন, আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই বিচার সম্পন্ন হবে এবং সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তিন মাসের মধ্যেই রায় কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনমন্ত্রীর ভাষায়, এত নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের মামলায় এত দ্রুত বিচার ও রায় দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, শিশু আছিয়া, রাজন, রাকিবসহ অন্যান্য আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলাও উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, “ধর্ষণ শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে।” আদালত উল্লেখ করেন, সুরতহাল প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে হত্যার পূর্বে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও অভিযোগকে অকাট্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় প্রদত্ত এই সর্বোচ্চ সাজা দেশের বিচারপ্রত্যাশী মানুষের মধ্যে নতুন আস্থার সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জনমনে একটিই প্রত্যাশা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, এই রায় যেন কেবল একটি মামলার পরিসমাপ্তি না হয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অপরাধীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তায় পরিণত হয়।

রামিসার নিভে যাওয়া শৈশব আর কখনও ফিরে আসবে না। কিন্তু আদালতের এই রায় যেন সেই হারিয়ে যাওয়া শিশুটির জন্য ন্যায়বিচারের এক দৃঢ় ঘোষণা। দেশের মানুষ আশা করছে, এই দৃষ্টান্তমূলক বিচার ধর্ষক ও নারী-শিশু নির্যাতনকারীদের লোলুপ মানসিকতায় ভয়ের কম্পন সৃষ্টি করবে এবং সমাজকে আরও নিরাপদ করার পথে এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে থাকবে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator