দুর্গাপুরে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন .. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দুর্গাপুরে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন ..

Rajesh Gour avatar   
Rajesh Gour
দুর্গাপুরে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন ..
দুর্গাপুরে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন ..
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে রাজনৈতিক প্রভাব ও শহীদ পরিবারের সদস্য পরিচয়ে আধিপত্য বিস্তার, জমি-টাকা আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে..

 

 

 বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার কাপাসটিয়া বাজারে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বিরিশিরি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুলের বড় ভাই খায়রুল ইসলাম।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কেউ জমি কিনেও দলিল পাচ্ছেন না, কেউ বন্ধক রাখা জমির টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। আবার কেউ সারা বছর কাজ করেও পাননি পারিশ্রমিক। টাকা চাইতে গেলে খায়রুল ইসলামের মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নারীও। 

ভুক্তভোগীদের দাবি তার ছোট ভাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়ায় সেই পরিচয় ও বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় একাধিক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী রহম আলী মন্ডল বলেন, দোকানে চা খাচ্ছিলাম, হঠাৎ এসে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। আমার অপরাধ ছিল বন্ধকি জমি ফেরত চাওয়া।

উত্তর গুজিরকোনা গ্রামের মাসুদ মিয়া বলেন, আমাকে দোকান থেকে চা এনে দিতে বলেছিল। চা দেওয়ার পর বলে পানি কেন আনলাম না। আমি বলেছি ভুল হয়েছে, তারপরও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আমার হাতের দুই পাশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সে বলে, সে শহীদ পরিবার, তাকে এসপি সাহেব চেয়ার দেয়। আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়।

শালুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আবু নাঈম জানান, ১৭ কাঠা জমি কিনেছি, কিন্তু রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছে না। উল্টো শহীদ পরিবার ও বিএনপির দাপট দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

জুলুমের শিকার থেকে বাদ যাননি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কিংবা অভিযুক্ত খায়রুল ইসলামের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও। হিজড়া সদস্য কলি আক্তারের অভিযোগ, তার পরিবারের জমি ও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে টাকা চাইতে গেলে তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী দিনমজুর ফজলুল হক বলেন, আমি এক বছর খায়রুলের বাড়িতে কাজ করেছি। আমার ২৬ হাজার টাকা পাওনা। তিন বছর ধরে ঘুরাচ্ছে। এখন শহীদ পরিবার বলে ভয় দেখায়।

চামারজানি গ্রামের বৃদ্ধ কুদ্দুস আলী ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তিনি ৭ কাঠা জমি বন্ধক রেখেছিলেন। দুই বছর পার হলেও খায়রুল ইসলাম তার টাকা বা জমি কিছুই ফেরত দিচ্ছেন না। উল্টো তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গতকাল লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আজ আমার অফিসার বিষয়টি তদন্তে গিয়েছে।



Keine Kommentare gefunden


News Card Generator