ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়েও শিক্ষার্থীরা যেন ঠাকুরগাঁওয়ে পড়তে আসে'
মানসম্মত শিক্ষা ও কঠোর নিয়োগের বার্তা দিলেন নতুন উপাচার্য
মো: আসাদুজ্জামান
পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
দেশের বড় বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়েও শিক্ষার্থীরা যেন প্রথম পছন্দ হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিল। তিনি বলেছেন, "শিক্ষা ও গবেষণার এমন এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে দেশের অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়েও শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে তা সম্ভব।"
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন
নিজের ছাত্র ও শিক্ষক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন,
"আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক ছিলাম। তাই আমার ভেতরেও একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা কাজ করে। কোনো শিক্ষার্থী যেন এটাকে ঢাকা বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'চান্স না পেয়ে' পড়ার বিকল্প হিসেবে না দেখে। আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় ছেলেমেয়েদের ধরে রাখাই নয়, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মেধাবীদেরও এখানে টেনে আনা।"
নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ড. মো. ইস্রাফিল জানান, পিয়ন, দারোয়ান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে এই অঞ্চলের মানুষদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোনো আপস করা হবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, যারা নিয়োগ পাবেন তারা ৩৫-৪০ বছর এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন। তাই পুরো টিমকে পরিশ্রমী, মেধাবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা রক্ষার উপযোগী হতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রতি উপাচার্যের আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন,
- কোনো সমালোচনা বা জবাবদিহির বিষয় থাকলে তা আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করে সরাসরি তাঁর সাথে পরামর্শ করা যাবে।
- বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি গঠনমূলক মতামত ও সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
- এ জন্য তাঁর ফোন নম্বর সবসময় খোলা থাকবে বলেও নিশ্চিত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশ গঠনের তাগিদ
বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তিনি খুব শীঘ্রই এলাকার স্কুল, কলেজ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যাবেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করবেন। এগুলো তাঁর গবেষণার অংশ হিসেবে আগামী ২০ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নের একটি ঐতিহাসিক আর্কাইভ বা স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
পাশাপাশি দেশ গঠনে সবাইকে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন, আমাদেরও সেভাবে কাজ করতে হবে। শুধু প্রধানমন্ত্রী একাই কাজ করবেন আর আমরা এটাকে সাধারণ চাকরি হিসেবে নেব—তাহলে কিন্তু বিএনপির বড় ব্যর্থতা হবে।"
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিবরণ
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি মোকাদ্দেস হায়াত মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন:
- জাহিদুর রহমান জাহিদ, সংসদ সদস্য, ঠাকুরগাঁও-৩ আসন।
- জিয়াউল ইসলাম জিয়া, সাধারণ সম্পাদক, পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।
- নসরতে খোদা রানা, সাধারণ সম্পাদক, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফিলকে একটি বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।