শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাতে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান।
পুলিশ জানায়, ডা. রাফসান জানির বিরুদ্ধে তার শ্যালিকা মণিরামপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মণিরামপুর থানা পুলিশ শনিবার রাতে যশোর উপশহরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনা করানো এবং নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে ডা. রাফসান জানি তার শ্যালিকাকে যশোরে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা দিয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল (ভয়ভীতি প্রদর্শন) করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সদরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ভুক্তভোগীকে সেখানে রাখেন ওই চিকিৎসক। সেখানেও দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী এজাহারে উল্লেখ করেন। নিরুপায় হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত ডা. রাফসান জানিকে ঘিরে এলাকায় এর আগেও নানা বিতর্ক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, বিতর্কিত এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুই সংবাদকর্মীও পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
মণিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ডা. রাফসান জানিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।