গাজায় রাফাহ ফিল্ড হাসপাতালের সম্প্রসারণ সম্পন্ন, স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ আইসিআরসির
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, গাজার রাফাহ এলাকায় পরিচালিত তাদের ফিল্ড হাসপাতালের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সামগ্রী সফলভাবে প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই বছর ধরে চালু থাকা এই হাসপাতালটি গাজার সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
আইসিআরসির ইসরায়েল ও অধিকৃত অঞ্চলসমূহে প্রধান প্রতিনিধি জুলিয়েন লেরিসোঁ বলেন, গাজার মানুষের চিকিৎসা চাহিদা পূরণে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও একটি মাত্র ফিল্ড হাসপাতাল বিপুল স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “রেড ক্রস ফিল্ড হাসপাতালের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবেশ গাজার মানুষের চিকিৎসা চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।”
এই হাসপাতালটি ১৬টি জাতীয় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে Norwegian Red Cross। পাশাপাশি Palestine Red Crescent Society-এর স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে মনোসামাজিক সহায়তা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছেন।
বর্তমানে এটি গাজার দক্ষিণাঞ্চলে কার্যকর থাকা অল্প কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের একটি। হাসপাতালটির বহির্বিভাগ স্থানীয় মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ শেষে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৬০ থেকে বেড়ে ৭২-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে উন্নত অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক জরুরি বিভাগ, নবায়ন করা মাতৃ ও শিশু সেবা ইউনিট, অস্ত্রোপচারের পর উন্নত পরিচর্যা সুবিধা এবং রোগীদের জন্য আরও স্বস্তিকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
আইসিআরসি জানায়, ২০২৪ সালের মে মাসে চালুর পর থেকে হাসপাতালটিতে ১১ হাজার ৩০০টির বেশি অস্ত্রোপচার, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি চিকিৎসা পরামর্শ, ১ হাজার ২০০টি প্রসব, ১৯ হাজার ২০০টি ফিজিওথেরাপি সেশন এবং ১ হাজার ৫০০টির বেশি রক্ত সঞ্চালন সম্পন্ন হয়েছে।
জুলিয়েন লেরিসোঁ বলেন, “ফিল্ড হাসপাতাল সাধারণত অস্থায়ী সমাধান হিসেবে তৈরি হয়। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে এই হাসপাতাল চালিয়ে যেতে হওয়া এবং এখনও এর প্রয়োজন থাকা গাজায় স্বাস্থ্যসেবার ভয়াবহ সংকটের চিত্র তুলে ধরে।”
আইসিআরসি আরও জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার প্রায় সব হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা টিকিয়ে রাখতে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উন্নত যন্ত্রপাতির প্রবেশ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এখনও বহু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে না।
সংস্থাটি বলছে, গাজার মানুষের শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, ধ্বংসস্তূপ অপসারণের যন্ত্রপাতি, নিহতদের শনাক্তে ফরেনসিক সহায়তা এবং আটক স্বজনদের খবর জানার সুযোগও প্রয়োজন।
আইসিআরসি মনে করছে, রাফাহ ফিল্ড হাসপাতালের সম্প্রসারণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।