পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি, অনুপ্রবেশ এবং চীনের কৌশল নিয়ে মেজর গৌরব আর্যর বিশ্লেষণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি, অনুপ্রবেশ এবং চীনের কৌশল নিয়ে মেজর গৌরব আর্যর বিশ্লেষণ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি, অনুপ্রবেশ এবং চীনের কৌশল নিয়ে মেজর গৌরব আর্যর বিশ্লেষণ..
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তি, অনুপ্রবেশ এবং চীনের কৌশল নিয়ে মেজর গৌরব আর্যর বিশ্লেষণ..
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষ করে তিস্তার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর দ্রুত সমাধান করে চীনের প্রভাব কমানো এবং ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।..

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি 'দ্য চাণক্য ডায়ালগস'-এ মেজর গৌরব আর্য এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং এর জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।

অনুপ্রবেশ (Pushback) এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ভারত অবৈধ অভিবাসীদের জোরালোভাবে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠাতে পারে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেজর গৌরব আর্যর মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ এখন আর শুধু অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের উচিত একটি যৌথ মেকানিজম বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়।

তিস্তা চুক্তি: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী) পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসায় তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশা প্রকাশ করেছেন। তিস্তা চুক্তিটি গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। মেজর আর্য বলেন, তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকার কারণে বাংলাদেশ যদি চীনের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে 'তিস্তা রিভার কম্প্রিহেন্সিভ ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট' বাস্তবায়ন করে, তবে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হবে। কারণ, এই প্রজেক্টের স্থানটি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'শিলিগুড়ি করিডোর' বা 'চিকেন নেক'-এর খুব কাছে। তার মতে, ভারতের উচিত নিজেই এই প্রজেক্টে অর্থায়ন করে চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করা।

চীনের কৌশল ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, চীন সুপরিকল্পিতভাবে ভারতের দুই প্রতিবেশী—পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। চীন চায় পাকিস্তান একদিক থেকে এবং বাংলাদেশ আরেক দিক থেকে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক। তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ এবং লালমনিরহাটে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ।

পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সামরিক প্রশিক্ষণ ভিডিওতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্প্রতি পাকিস্তানে প্রশিক্ষণের জন্য গেছেন। মেজর আর্য একে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের বর্তমান ভঙ্গুর প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশের শেখার কিছু নেই।

উপসংহার মেজর গৌরব আর্য ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতের সেরা কূটনীতিকদের কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে তিস্তার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর দ্রুত সমাধান করে চীনের প্রভাব কমানো এবং ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র: দ্য চাণক্য ডায়ালগস (মেজর গৌরব আর্য)।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator