১৯৫০-এর দশকে থমকে যাওয়া কিউবা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পর্যুদস্ত এক জনপদ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

১৯৫০-এর দশকে থমকে যাওয়া কিউবা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পর্যুদস্ত এক জনপদ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
১৯৫০-এর দশকে থমকে যাওয়া কিউবা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পর্যুদস্ত এক জনপদ..
১৯৫০-এর দশকে থমকে যাওয়া কিউবা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পর্যুদস্ত এক জনপদ..
ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস স্টেশনগুলো খালি পড়ে আছে। সরকারি পাম্পে তেল পেতে হলে মানুষকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে সিরিয়াল দিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।..

ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রিয় ভ্লগার জো হাট্টাব (Joe HaTTab) তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখিয়েছেন যে, দেশটির রাজধানী হাভানা আজ এক 'ভুতুড়ে শহরে' পরিণত হয়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব, প্রতিদিনের দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং খাদ্য সংকটে কিউবার ১১ মিলিয়ন মানুষের জীবন এখন দিশেহারা।

জ্বালানি সংকট ও থমকে যাওয়া জনজীবন ভিডিওতে দেখা যায়, কিউবার রাস্তাগুলো প্রায় জনশূন্য। পেট্রোল ও ডিজেলের অভাবে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ। মানুষ যাতায়াতের জন্য এখন ঘোড়ার গাড়ি বা 'কোকো ট্যাক্সি'র ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্যাস স্টেশনগুলো খালি পড়ে আছে। সরকারি পাম্পে তেল পেতে হলে মানুষকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে সিরিয়াল দিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে ১ লিটার তেলের জন্য প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সিরিয়ালে থাকার তথ্যও ভিডিওতে উঠে এসেছে।

অন্ধকারে নিমজ্জিত দেশ ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিউবায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সারা দেশে প্রায়ই 'ন্যাশনাল ব্ল্যাকআউট' বা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। হাভানার মতো বড় শহরেও রাতে রাস্তার বাতি জ্বলে না, কেবল হাতেগোনা কিছু হোটেল বা সচ্ছল মানুষের বাড়িতে জেনারেটরের আলো দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ কেবল এক টুকরো রুটি কেনার জন্য অন্ধকারে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

আবাসন ও খাদ্য সংকট কিউবার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। গড় মাসিক বেতন ৫০ ডলারের কম। বহু মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভিডিওতে এমন একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে যেখানে একটি বড় জিমের ভেতরে ১৪টি পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করছে, কারণ তাদের পুরনো বাড়িগুলো ভেঙে পড়েছে। সুপেয় পানির সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে, কারণ পাম্প চালানোর মতো পর্যাপ্ত তেল বা বিদ্যুৎ নেই।

ইতিহাস ও বর্তমান ভূ-রাজনীতি ভিডিওটিতে কিউবার এই পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিনের মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ (Embargo) এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করা হয়েছে। ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে কিউবা বিশ্ব থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ভেনেজুয়েলা থেকে সাহায্য পেলেও এখন সেই উৎসগুলো প্রায় বন্ধ। বর্তমানে কিউবায় রাশিয়ার প্রভাব এবং বিশাল রুশ দূতাবাস দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই।

সতর্ক নজরদারি ও কালোবাজারি কিউবার প্রতিটি পাড়ায় 'CDR' (Committees for the Defense of the Revolution) নামক একটি গোপন নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে, যারা কমিউনিস্ট আদর্শ রক্ষায় জনগণের ওপর নজর রাখে। তবে বর্তমানে মানুষ এতটাই অভাবগ্রস্ত যে, তারা নজরদারির চেয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে বেশি ব্যস্ত। মুদ্রার বিনিময় মূল্যেও বিশাল তফাৎ দেখা গেছে—অফিসিয়াল হারের চেয়ে কালোবাজারে ডলারের দাম প্রায় ১০ গুণ বেশি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator