তিন শতাধিক ঘরের জন্য এক নিয়ম, আব্দুল হামিদের জন্য আরেক নিয়ম.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তিন শতাধিক ঘরের জন্য এক নিয়ম, আব্দুল হামিদের জন্য আরেক নিয়ম..

Md Shahed avatar   
Md Shahed
তিন শতাধিক ঘরের জন্য এক নিয়ম, আব্দুল হামিদের জন্য আরেক নিয়ম..
তিন শতাধিক ঘরের জন্য এক নিয়ম, আব্দুল হামিদের জন্য আরেক নিয়ম..
ছবি: সংগৃহীত
পদুয়া রেঞ্জে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন


সাতকানিয়া প্রতিনিধি:মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম 


চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন পদুয়া রেঞ্জের বড়দুয়ার বিটের হলুদিয়া এলাকায় সামাজিক বনায়নের জমিতে পরিচালিত বন বিভাগের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকায় বন বিভাগের জমিতে শত শত ঘরবাড়ি থাকলেও রহস্যজনকভাবে শুধুমাত্র এক ব্যক্তির ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বন বিভাগের এই অভিযান নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দুয়ার বিট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের জমিতে পাঁচ শতাধিক বসতঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। তবে সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল বন বিভাগের জায়গা থেকে আগর গাছ কাটার অভিযোগে বনে বিভাগ অভিযান চালায় সেখান থেকে বেশ কিছু সামাজিক বানয়নের গাছ উদ্ধার বনবিভাগ। পরে বনবিভাগেরর পক্ষ থেকে   মো. আব্দুল হামিদ (৪৭) ও মোঃ জহির (৫৭) মামলা দায়ের করে। তার পরের দিন ২৬ তারিখ কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া তড়িঘড়ি করে বন বিভাগের উপর নির্মিত তার ঘর এস্কেলেটর দ্বারা ভেঙে দেয়। এই সময় অভিযুক্তদের ধরে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে বনবিভাগের বিরুদ্ধে। এই পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন পদুয়া রেঞ্জে কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল হামিদ (৪৭) বলেন, “আমার খতিয়ানের জায়গার পাশেই বন বিভাগের কিছু জায়গা রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। হঠাৎ কে বা কারা বন বিভাগের জায়গা থেকে আগর গাছ কেটে ফেলে রাখে। সেই ঘটনায় আমাকে ও আমার ভাই মো. জহিরকে আসামি করা হয়। আমরা জেলও খেটেছি। কিন্তু গাছ কে কেটেছে, তা তদন্ত না করেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কোনো নোটিশ ছাড়াই বন বিভাগের লোকজন এসে আমার ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমাকে মারধর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে জামিনে মুক্ত হই। অথচ আশেপাশে বন বিভাগের জমিতে আরও পাঁচ শতাধিক ঘর রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাহলে কি পাঁচ শতাধিক ঘরের জন্য এক নিয়ম, আর আমার জন্য আরেক নিয়ম?”
স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি বন বিভাগের জমি অবৈধ দখলে থাকে, তাহলে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র একজনের ঘর উচ্ছেদ করায় অভিযানের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, বন বিভাগের কাউকে “টাকা না দেওয়ায়” তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বন বিভাগ।তারা বলছেন তাকে ছয় মাস আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। জানাযায,এ ধরনের নোটিশ বনবিভাগ জায়গার উপর নির্মাণ করা প্রত্যেক ঘরকে দেওয়া হয়ছে।প্রশ্ন উঠেছে আগর গাছ কাটায় ক্ষোভ নিয়ে ঘর ভেঙ্গে দিয়ে হয়েছে নাকি নিয়মিত প্রত্যেক ঘর ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে ঘরটি ভাঙ্গা হয়েছে। তার দাবি সকলের জন্য ন্যায় বিচার করা হোক 
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের উপবন সংরক্ষক মো. সোহেল রানা বলেন, “বন বিভাগের জমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানও বিধি মেনেই পরিচালনা করা হয়েছে।”

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator