সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ (Fujairah) অয়েল টার্মিনালে ইরানের হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানি কড়া ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছে যে, নিজেদের স্বার্থের জন্য ইরান পুরো বিশ্বকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ভেতরে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এক বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে।
পাগলমি বন্ধ করার ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট ভিডিওর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) এই পরিস্থিতিকে 'পাগলমি' (Madness) বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর' (IRGC) যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছে, তা দেশের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। পেজেশকিয়ান মূলত কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের পক্ষে, কিন্তু আইআরজিসি সরাসরি সংঘাত বা 'জিহাদের' পথে হাঁটছে।
খামেনেইর উত্তরসূরি নিয়ে রহস্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনেইকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘদিন তার কোনো ভিডিও বা স্থিরচিত্র জনসমক্ষে আসেনি। ইরান সরকার এটিকে নিরাপত্তার কারণ বললেও বিশ্লেষক গৌরব আর্য একে ক্ষমতার পর্দার আড়ালে চলা গভীর কোনো সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ তিন স্তরের সমস্যা: ১. রাষ্ট্রীয় বিভাজন: ইরানের শাসনব্যবস্থায় এখন দুটি স্পষ্ট দল—একদল কূটনীতি চায়, অন্যদল চায় যুদ্ধ। ২. জনগণের ক্ষোভ: ১৯৭৯ সাল থেকে চলতে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভারে ইরানের সাধারণ মানুষ জর্জরিত। মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তারা দিশেহারা। ৩. অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব: মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধের পথে, যা দেশটির আয়ের প্রধান উৎস।
পাল্টা হামলার পরিকল্পনা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ভিডিওতে বলা হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি 'শর্ট এবং পাওয়ারফুল' স্ট্রাইক হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের 'খড়গ আইল্যান্ড' (Kharg Island) এবং প্রধান বন্দরগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকের মতে, ইরান যদি আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে ইরানের নিজস্ব অবকাঠামোও রক্ষা পাবে না—ইসরায়েল এই নীতিতেই বিশ্বাসী।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ভিডিওটিতে জানানো হয়েছে।