অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: মূল পয়েন্টগুলো.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: মূল পয়েন্টগুলো..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: মূল পয়েন্টগুলো..
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: মূল পয়েন্টগুলো..
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো অবৈধ অস্ত্র মাঠ পর্যায়ে রাখা হবে না।..

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র এখনও জমা না পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সেগুলো দ্রুত উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো অবৈধ অস্ত্র মাঠ পর্যায়ে রাখা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও একটি বড় অংশের অস্ত্র জমা পড়েনি, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব লাইসেন্স নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বা কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে এসব অস্ত্র ও লাইসেন্স পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।

মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা দেননি, তাদের অস্ত্রগুলো কেবল বাজেয়াপ্তই করা হবে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০০৯ সালের আগে ইস্যু করা বৈধ লাইসেন্সধারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন জুয়া সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছে এবং এর মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই অবক্ষয় রোধে সরকার নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে যা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে। মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ডিসিদের আপসহীন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে হলে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

পরিশেষে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার এই লক্ষ্য অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর ও সাহসী ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator