যশোরের হাটবিলা-জামতলা এলাকার সুমনা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫মে) সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামের মোমিন গাজী বাদী হয়ে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি করেন।
বিচারক আছাদুল ইসলাম বিষয়টি আমলে নিয়ে এ সংক্রান্ত কোনো মামলা থানায় হয়েছে কিনা, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—নিহতের স্বামী জসিম মোল্যা, শ্বশুর তক্কেল মোল্যা, শাশুড়ি তারা খাতুন এবং দেবর নাজিম মোল্যা।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে জসিম মোল্যার সঙ্গে সুমনা খাতুনের বিয়ে হয় এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে বেকার জসিম স্ত্রী সুমনার নামে এনজিও থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ নিলেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতেন না।
গত ২৮ এপ্রিল কিস্তির টাকা নিতে এনজিও কর্মীরা বাড়িতে এলে জসিম পালিয়ে যান। ওই সময় এনজিও কর্মীদের আপত্তিকর কথার প্রতিবাদ করায় সুমনাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন রাতেই জসিম বাড়ি ফিরে পরিবারের অন্যদের সহযোগিতায় সুমনাকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালাতে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
বাদী আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি না করেই শোকাতুর পরিবারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে দ্রুত লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে।
পরবর্তীতে নিহতের ৭ বছর বয়সী ছেলে জাহিন ও প্রতিবেশীদের কাছে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে বাদী থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। ফলে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।